নিম্ন আয়ের মানুষের স্বস্তিতে ইন্দোনেশিয়া থেকে আসছে ২ কোটি লিটার সয়াবিন তেল

 প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০৬:২৭ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

নিম্ন আয়ের মানুষের স্বস্তিতে ইন্দোনেশিয়া থেকে আসছে ২ কোটি লিটার সয়াবিন তেল


​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​ভোজ্যতেলের বাজারে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস যখন নিত্যসঙ্গী, তখন নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য এক পশলা স্বস্তির খবর নিয়ে এলো সরকার। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ডধারী সাধারণ মানুষের জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে ২ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ২৮২ কোটি টাকারও বেশি।

​বৃহস্পতিবার (৭ মে) অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে টিসিবি এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করবে।

​পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির মাধ্যমে। দরপত্র আহ্বানের পর দুটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করলেও কারিগরি ও আর্থিক দিক বিবেচনায় একমাত্র গ্রহণযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ইন্দোনেশিয়াভিত্তিক ‘পিটি ট্রিনিটি ছায়া এনার্জি’। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ধরবে ১.১৫১ মার্কিন ডলার। সেই হিসেবে ২ কোটি লিটার তেলের জন্য মোট খরচ পড়ছে ২ কোটি ৩০ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় ২৮২ কোটি ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকার সমান।

​অর্থনৈতিক এই হিসাব-নিকাশের বাইরেও সাধারণ মানুষের জন্য এই আমদানির বড় সুখবরটি লুকিয়ে আছে দরের পার্থক্যে। টিসিবির হিসেব বলছে, গুদাম পর্যন্ত পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ যোগ করার পর প্রতি লিটার তেলের আমদানি মূল্য দাঁড়াবে ১৭৮ টাকা ৫৬ পয়সা। বর্তমান স্থানীয় বাজারে সয়াবিন তেলের গড় দাম যেখানে ১৯৫ টাকা, সেখানে আমদানিকৃত এই তেল লিটারপ্রতি প্রায় ১৬ টাকা ৪৪ পয়সা কম মূল্যে সংগ্রহ করতে পারছে সরকার। এই সাশ্রয়ী মূল্যের সুবিধা সরাসরি পাবেন ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের মানুষেরা, যারা নিয়মিত টিসিবির ভর্তুকি মূল্যের পণ্য কিনে থাকেন।

​চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা হলো মোট ২৩ কোটি লিটার ভোজ্যতেল সংগ্রহ করা। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই বড় চালানটি দেশে আনা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১২ কোটি ১৬ লাখ ৭৯ হাজার ৩৪ লিটার তেল কেনা সম্পন্ন হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার এই তেল দেশে পৌঁছালে টিসিবির সরবরাহ ব্যবস্থায় যেমন গতি ফিরবে, তেমনি সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের দুশ্চিন্তাও কিছুটা লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement