নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর সরকার: অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনারের সাথে খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর বৈঠক

 প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০৬:২৬ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর সরকার: অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনারের সাথে খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর বৈঠক

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​দেশের প্রতিটি নাগরিকের পাতে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া বর্তমান সরকারের জন্য অন্যতম বড় একটি চ্যালেঞ্জ। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

​সচিবালয়ের খাদ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, খাদ্য নিরাপত্তা এবং আধুনিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনার এক পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী হাইকমিশনারকে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারের গৃহীত নানামুখী পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের খাদ্য মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে, যেখানে আধুনিক গুদাম ব্যবস্থাপনা এবং খাদ্য সংরক্ষণ পদ্ধতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

​নিরাপদ খাদ্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী অকপটে স্বীকার করেন যে, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য শতভাগ নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। তিনি বলেন, "দেশের সব মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। একদিনে এই সমস্যার আমূল পরিবর্তন সম্ভব নয়, তবে আমরা দমে যাইনি। সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়েছে এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা পর্যায়ক্রমে এই লক্ষ্য অর্জনে সফল হব।"

​বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং বিশেষ করে খাদ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারের অর্জিত সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের সাথে অস্ট্রেলিয়ার অটুট ও শক্তিশালী সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় ২৮ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে, যা দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত সম্পর্কেরই প্রতিফলন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে অস্ট্রেলিয়া থেকে গম আমদানির একটি প্রস্তাবও প্রতিমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।

​সৌহার্দ্যপূর্ণ এই আলোচনা শেষে উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত বিনিময় বৃদ্ধিতে একে অপরকে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার এই দীর্ঘ যাত্রায় আন্তর্জাতিক মিত্রদের সাথে নিয়ে বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে—এমনই আশাবাদ ব্যক্ত হয়েছে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement