ঈদযাত্রায় স্বস্তি: সড়ক ও রেলের পাশে বসছে না পশুর হাট

 প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০৩:০৮ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

ঈদযাত্রায় স্বস্তি: সড়ক ও রেলের পাশে বসছে না পশুর হাট

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​আসন্ন ঈদুল আজহায় ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে একগুচ্ছ কঠোর ও জনবান্ধব সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ এক সেশন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, জনভোগান্তি এড়াতে এবার মহাসড়ক কিংবা রেললাইনের পাশে কোনোভাবেই পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না।

​স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, উৎসবের আনন্দ যেন যানজট কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কবলে না পড়ে, সে জন্য পশুর হাট ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। পশুর হাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় বড় হাটগুলোতে মোতায়েন থাকবে পুলিশের বিশেষ টিম, যাদের পোশাকে থাকবে ‘বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা’। এছাড়া জাল নোটের কারবার রুখতে প্রতিটি হাটে শনাক্তকারী মেশিন স্থাপনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

​কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে প্রতিবছর যে অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়, তা নিরসনে এবার কৌশলী পথে হাঁটছে সরকার। মন্ত্রী বলেন, ঢাকার ট্যানারিগুলোর সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় এবার উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়েই চামড়া সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। চামড়া নষ্ট হওয়া ঠেকাতে অন্তত সাত দিন লবণ দিয়ে তা সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এক্ষেত্রে উৎসাহ দিতে সরকার বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

​আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক, চাঁদাবাজি ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় থাকবে। বিশেষ করে অনলাইন জুয়ার ভয়াল থাবা থেকে তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কিছু বিতর্কিত সাইট ব্লক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

​সীমান্ত পরিস্থিতি ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ঢালাও মামলার বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ওপারে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্তে বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া হত্যা মামলাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে যাচাই-বাছাই করছে সরকার। এ লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ কমিটি প্রকৃত অপরাধী ও পেশাদার সাংবাদিকদের আলাদা করতে কাজ করছে, যাতে কোনো নিরপরাধ গণমাধ্যমকর্মী হয়রানির শিকার না হন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement