ভাতাভোগীর তালিকায় শুদ্ধি অভিযান: প্রকৃত সুবিধাভোগী বাছাইয়ে কঠোর বার্তা প্রতিমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুফল যেন প্রকৃত অভাবী মানুষের দুয়ারে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে এক বড় পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। বুধবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের সমাপনী দিনে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় শেষে তিনি এই বার্তা দেন।
প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, সরকারের বিভিন্ন ভাতাভোগীদের বর্তমান তালিকা পুনর্মূল্যায়ন করতে ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অব্যবস্থাপনা দূর করে তালিকায় স্বচ্ছতা ফেরানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই অযোগ্য ব্যক্তিরা যেন সরকারি ভাতার তালিকায় স্থান না পায়।
অফিসিয়াল ব্রিফিংয়ে ফারজানা শারমীন সরকারের উন্নয়ন দর্শনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। তিনি বলেন, “সরকারের বর্তমান লক্ষ্য কেবল বড় বড় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়, বরং গ্রামীণ জনপদকে সরাসরি সরকারি সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে জাতীয় অর্থনীতির মূলধারায় সম্পৃক্ত করাই আমাদের অগ্রাধিকার।” তিনি বিশ্বাস করেন, ভাতার টাকা যখন সঠিক মানুষের হাতে পৌঁছাবে, তখনই গ্রামীণ অর্থনীতিতে সত্যিকারের গতিশীলতা আসবে।
একই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এখন থেকে জেলা পর্যায়ে কোনো প্রকার মেলার আয়োজনের জন্য খেলার মাঠ ব্যবহার করা যাবে না। তরুণ প্রজন্মের বিকাশে মাঠের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, “মাঠ থাকবে কেবল খেলার জন্য।” সেই সঙ্গে জরাজীর্ণ জেলা স্টেডিয়ামগুলো দ্রুত সংস্কার করে সেগুলোকে পুনরায় ক্রীড়ামুখী ও সচল করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
ডিসি সম্মেলনের শেষ দিনে দুই প্রতিমন্ত্রীর এই সময়োপযোগী নির্দেশনা মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের কর্মতৎপরতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভাতার তালিকায় শুদ্ধি অভিযানের ঘোষণা তৃণমূলের সাধারণ মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।