সীমান্তে কড়া নজরদারির নির্দেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা

 প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০৩:০৩ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

সীমান্তে কড়া নজরদারির নির্দেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তাপের আঁচ যেন কোনোভাবেই এপাড়ে এসে না লাগে, সেজন্য বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি বহুগুণ বাড়াতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (৬ মে) চারদিন ব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের সমাপনী দিনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

​পশ্চিমবঙ্গের চলমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে বড় কোনো অস্থিরতার আশঙ্কা না থাকলেও সরকার কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে নারাজ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ওপাড়ে উত্তেজনার জেরে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ বা 'পুশইন' করার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি রুখতে বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠ প্রশাসনকেও সজাগ থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

​সম্মেলনের শেষ দিনে ডিসিদের সাথে বৈঠকে উঠে আসে অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার একগুচ্ছ কর্মপরিকল্পনা। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়রানিমূলক মামলার জট খুলতে এবং জুলাই আন্দোলনের সময়কার মামলাগুলোর একটি স্বচ্ছ তালিকা প্রস্তুত করতে ডিসিদের এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মন্ত্রী। শুধু তাই নয়, লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও যেগুলো অবৈধ ব্যবহারের আওতায় পড়েছে, সেইসব অস্ত্র উদ্ধারেও চিরুনি অভিযানের ইঙ্গিত দেন তিনি।

​সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা এসেছে এই সম্মেলন থেকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সড়ক ও রেলপথে জালিয়াতি রোধে পুলিশ এখন থেকে ‘বডি ক্যামেরা’ ব্যবহার করবে এবং জাল টাকা শনাক্তে বিশেষ মেশিন সরবরাহ করা হবে। ফেরিঘাটে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে বাস থেকে যাত্রী নামিয়ে বাস ফেরিতে তোলার নিয়ম কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

​প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক ও অনলাইন জুয়ার মতো সামাজিক ব্যাধি দমনে কোনো আপস নেই। বিশেষ করে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে দেশের টাকা পাচার ও তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে খুব শীঘ্রই নতুন ও কঠোর আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। ডিজিটাল অপরাধ দমনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেষ হয় এবারের জেলা প্রশাসক সম্মেলন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement