চাঁদাবাজদের জন্য ‘জিরো টলারেন্স’—ঈদে নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি

 প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০১:১৫ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

চাঁদাবাজদের জন্য ‘জিরো টলারেন্স’—ঈদে নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর পশুর হাটকে ঘিরে বহু বছরের আতঙ্ক—চাঁদাবাজি, বিশৃঙ্খলা আর নিরাপত্তাহীনতা—এবার ভেঙে দিতে দৃঢ় বার্তা দিল সরকার। গাবতলীর ব্যস্ত হাট প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, “এবার আর সড়কে কিংবা হাটে কোনো চাঁদাবাজি চলবে না”—আর এই ঘোষণা শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, মাঠে থাকবে কঠোর বাস্তবায়ন।

সকালের পরিদর্শনে গাবতলীর দৃশ্য ছিল অন্যরকম। বিশাল পশুর হাটের প্রস্তুতি, নতুন সংযোগ সড়কের কাজ আর ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দেওয়ার পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে যেন ঈদকে কেন্দ্র করে এক বিশাল অপারেশন। প্রতিমন্ত্রীর কথায় ফুটে উঠল সরকারের আত্মবিশ্বাস, আগের মতো অরাজকতা নয়, এবার থাকবে নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ পরিবেশ। তিনি অতীতের অভিজ্ঞতার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, আগে সড়কে চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল নিয়মিত, কিন্তু এখন প্রশাসন আগেভাগেই প্রস্তুত—কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

এই প্রস্তুতির চিত্র শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েনেই সীমাবদ্ধ নয়। হাটজুড়ে থাকবে বহুস্তরীয় নজরদারি—পুলিশ, র‍্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি যেন এক শক্ত বার্তা দেয়, আইন ভাঙার সুযোগ নেই। জাল টাকার দৌরাত্ম্য ঠেকাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যাতে ক্রেতা-বিক্রেতারা নিশ্চিন্তে লেনদেন করতে পারেন। পাশাপাশি প্রতিটি হাটে থাকবে মেডিকেল বুথ—হঠাৎ অসুস্থতা বা দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করতে।

গাবতলী পশুর হাট ও বাস টার্মিনালের প্রবেশপথ উন্নয়নের কাজও এগোচ্ছে দ্রুতগতিতে। লক্ষ্য একটাই—ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের যাত্রা এবং পশুবাহী ট্রাকের চলাচল যেন নির্বিঘ্ন হয়। ধুলোময়, জটজট পরিবেশের বদলে এবার সেখানে গড়ে উঠছে আরও সুসংগঠিত অবকাঠামো।

সব মিলিয়ে সরকারের এই উদ্যোগ যেন একটি বড় বার্তা বহন করছে—কোরবানির ঈদ শুধু উৎসব নয়, এটি হতে যাচ্ছে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও স্বস্তির এক নতুন অভিজ্ঞতা। যেখানে খামারি, ব্যবসায়ী আর সাধারণ মানুষ—সবার জন্যই থাকবে নিশ্চিন্ত এক পরিবেশ।

Advertisement
Advertisement
Advertisement