এপ্রিলে সড়কে রক্তক্ষয়ী মাস: প্রাণ গেল ৪০৪ জনের বেপরোয়া গতি ও ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা দায়ী, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঢাকা বিভাগে
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সড়ক দুর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪০৪ জন মানুষ। এই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ৭০৯ জন। যাত্রী ও পথচারীদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
আজ বুধবার (৬ মে) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো এপ্রিল মাসের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন পোর্টাল, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব সংগ্রহের তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
যানবাহন ও হতাহতের চিত্র
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলে মোট ৬৫৯টি যানবাহন দুর্ঘটনায় পতিত হয়। প্রাণহানির শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। এককভাবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১১৩ জন চালক ও আরোহী নিহত হয়েছেন। এছাড়া থ্রি-হুইলার যাত্রী ৬১ জন, ট্রাক-পিকআপ-লরি-ট্রলি-ট্রাক্টর আরোহী ৫১ জন এবং বাসের যাত্রী ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান
দুর্ঘটনার তীব্রতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ঢাকা বিভাগে। এখানে ২৩.৫৪ শতাংশ দুর্ঘটনায় ২৫.২৪ শতাংশ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা বিভাগে ১০৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০২ জন। অন্যদিকে, সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ১২টি দুর্ঘটনায় ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৩৬টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৬৭ জন আহত হয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণসমূহ
দুর্ঘটনার জন্য প্রধানত ১১টি কারণকে চিহ্নিত করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে রয়েছে
ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবস্থা
চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও অনিয়ন্ত্রিত কর্মঘণ্টা। মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহনের অবাধ বিচরণ। তরুণদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে আইন অমান্য করার প্রবণতা। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা এবং বিআরটিএ-র সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা।
বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সংগঠনটি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠনসহ বেশ কিছু জোরালো সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— সড়ক, রেল ও নৌ পরিবহনকে একত্রিত করে ‘অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়’ গঠন, গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধ, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করা এবং মেয়রোত্তীর্ণ যানবাহন চিরতরে রাস্তা থেকে অপসারণ করা। এছাড়া দক্ষ চালক তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব এবং তাদের বেতন ও কর্মঘণ্টা সুনির্দিষ্ট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য:
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধুমাত্র আইন করলে হবে না, বরং আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সড়ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা জরুরি। বিশেষ করে মহাসড়কের নকশা পরিবর্তন করে ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক সার্ভিস লেন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।