সংকট কাটিয়ে ছন্দে ফিরছে ইস্টার্ন রিফাইনারি: সাগরের বুকে তেলের বহর
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দীর্ঘ ২২ দিনের নিস্তব্ধতা ভেঙে আবারও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি। কাঁচামাল বা ক্রুড অয়েলের তীব্র সংকটে গত ১৪ এপ্রিল থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়া শোধনাগারটির চাকা সচল করতে বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া পয়েন্টে এসে নোঙর করেছে বিশালাকায় এক তেলের জাহাজ। ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে আসা ‘এমটি নাইনমিয়া’ এখন ইস্টার্ন রিফাইনারির প্রাণস্পন্দন ফেরানোর অপেক্ষায়।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা আর লোহিত সাগরের উত্তাল পরিস্থিতির মাঝে এবার এক কৌশলী পথে পা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। হরমুজ প্রণালীর ঝুঁকি এড়াতে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এই তেল সংগ্রহ করা হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছানো এই জাহাজ থেকে এখন চলছে তেল খালাসের মহাযজ্ঞ। বড় জাহাজ থেকে ছোট ছোট ৮টি লাইটার জাহাজে করে তেল আনা হচ্ছে পতেঙ্গার ডলফিন জেটিতে, যেখান থেকে পাইপলাইনের শিরা-উপশিরা বেয়ে এই জ্বালানি পৌঁছে যাবে রিফাইনারির বিশাল স্টোরেজ ট্যাংকে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী ৭ মে থেকেই পূর্ণোদ্যমে উৎপাদনে ফিরবে ইস্টার্ন রিফাইনারি। দীর্ঘ বিরতির পর এই ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল থেকে পাওয়া যাবে ২৬ হাজার টন ডিজেল, ১৬ হাজার টন পেট্রোল আর ৮ হাজার টন অকটেনসহ মোট ১৩ ধরনের জ্বালানি। তবে এই রসদ দিয়ে চলবে মাত্র ২৫ দিন। তাই সংকট যেন আর না জেঁকে বসে, সে লক্ষ্যে মে মাসের ১০ তারিখেই আরব আমিরাত থেকে আরও ১ লাখ টন তেলের পরবর্তী চালান লোড হওয়ার কথা রয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রিফাইনারির প্রধান ইউনিটগুলো বন্ধ থাকায় পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে দেশের চাহিদা সামাল দিতে হয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনকে (বিপিসি)। এখন নিজস্ব শোধনাগারে উৎপাদন শুরু হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় যেমন স্বস্তি ফিরবে, তেমনি সাশ্রয় হবে বৈদেশিক মুদ্রাও। দিগন্তের ওপারে আরও তেলের জাহাজের হাতছানিতে দেশের একমাত্র এই শোধনাগারটি এখন আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নে বিভোর।