বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবসে প্রধান উপদেষ্টার বাণী
“প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও বাংলাদেশে ‘বিশ্ব
হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৫’ উদ্যাপন করা
হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। বাংলাদেশ নৌবাহিনীসহ দিবসটি আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে
জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। এবছর দিবসটির প্রতিপাদ্য-‘Seabed
Mapping: Enabling Ocean Action’-যার মাধ্যমে গভীর সমুদ্রের তলদেশের
মানচিত্রায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে, অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত হয়েছে বলে আমি মনে করি।
বাংলাদেশের
জাতীয় অর্থনীতি, নিরাপত্তা
ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বঙ্গোপসাগর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু বাংলাদেশই নয়, পার্শ্ববর্তী
দেশগুলোও তাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বঙ্গোপসাগরের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশকে একটি উৎপাদনমুখী ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক
কেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সমুদ্র সম্পদকে আরো
কার্যকরভাবে ব্যবহারে বিশদ,
হালনাগাদ ও নির্ভুল হাইড্রোগ্রাফিক তথ্যের কোনো বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের
উপকূলীয় অঞ্চল ও সমুদ্রসীমার হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ, চার্ট প্রস্তুত, সকল দেশি ও
বিদেশি জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তথ্য-উপাত্ত বিনিময়ে
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফিক বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে
জাতিসংঘের সমুদ্র আইন (UNCLOS) অনুযায়ী, আমাদের মহীসোপান অঞ্চল নির্ধারণ এবং
সুনীল অর্থনীতি বিকাশে হাইড্রোগ্রাফিক বিভাগের কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমি আশা করি, আমাদের
সামরিক ও নৌ-নিরাপত্তা
নিশ্চিতের পাশাপাশি হাইড্রোগ্রাফি বিভাগ সমুদ্র বন্দরের উন্নয়ন, মৎস্য সম্পদ
সংরক্ষণ, তেল ও
গ্যাস অনুসন্ধান এবং উপকূলীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
বাংলাদেশের
অর্থনীতির ভিতকে আরো মজবুত ও সমৃদ্ধ করতে সমুদ্র তলদেশের নির্ভুল মানচিত্রায়নের
মাধ্যমে একটি কার্যকর ও টেকসই সমুদ্রনীতি গড়ে তুলতে হবে। আমাদের সমুদ্রসীমার একটি
পরিপূর্ণ হাইড্রোগ্রাফিক তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে আরো পেশাদারিত্ব, দক্ষতা, নিষ্ঠার সাথে
কাজ করার জন্য দেশের হাইড্রোগ্রাফিক পেশাজীবীদের প্রতি আমি আহ্বান জানাই।
আমি ‘বিশ্ব
হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৫’ উপলক্ষ্যে
গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।”