যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ায় প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন
ছবি-সংগৃহীতআন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রথমবারের মতো পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট দুমার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে রাশিয়ায়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের নির্দেশ দেওয়ার পর এটিই দেশটির প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন।
স্টেট দুমার আসনের পাশাপাশি কয়েকটি অঞ্চলে গভর্নর নির্বাচন এবং স্থানীয় আইনসভা নির্বাচনের ভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক পর্যায়ের এই নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের নির্বাচন রাশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্ট নির্বাচনের একটি। ভোটারদের সামনে পছন্দের সুযোগও ছিল সীমিত। ফলে ব্যালটের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক গতিপথে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সুযোগ কতটা ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নির্বাচনে যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা একমাত্র দল ছিল উদারপন্থী ইয়াবলোকো পার্টি। তবে দলটিকে পার্টি-লিস্টের ব্যালটে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে জাতীয় পর্যায়ে দলটির প্রার্থীদের ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।
শুধু দলীয় তালিকাতেই নয়, একক আসনভিত্তিক নির্বাচনে ইয়াবলোকোর প্রার্থীরাও বাধার মুখে পড়েন। তাঁদের কয়েকজনকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে চাপের মুখে পড়ার অভিযোগও রয়েছে।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে ঘোষণা করা হবে। তবে ফল ঘোষণার আগে থেকেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ, বিরোধী প্রার্থীদের অবস্থান এবং ভোটের পরিবেশ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
২০২২ সালের পর রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন তাই শুধু পার্লামেন্টের আসন নির্ধারণের ভোট নয়; যুদ্ধের সময়ে দেশটির রাজনৈতিক পরিসর কতটা উন্মুক্ত রয়েছে, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।