হরমুজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার টানাপোড়েন কমাতে আলোচনা
ছবি -সংগৃহীতআন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ নিয়ে মতপার্থক্য কমাতে আলোচনা করেছেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন। দীর্ঘদিনের দুই মিত্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বর্তমানে এই দুই বিষয়ই বেশ আলোচনায় রয়েছে।
সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া উদ্যোগে যথেষ্ট সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে গত বছর হওয়া বাণিজ্য চুক্তির আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিশ্রুত ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে বাস্তবভিত্তিক অবদান রাখার ব্যাপারে সিউলের আগ্রহের কথা রুবিওকে জানিয়েছেন চো। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গে দ্রুত তা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন রুবিও। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দুই মন্ত্রী যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন, যাতে চলমান আলোচনার পরিকল্পনাগুলো ‘ভালো ফল’ বয়ে আনে।
সেমিকন্ডাক্টরসহ কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন রুবিও ও চো। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য ন্যায্য ও স্বচ্ছ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন রুবিও।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। শুক্রবার তিনি বলেছেন, এমনভাবে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সরঞ্জাম বা বাহিনী পাঠাবে না সিউল, যাতে দেশটি কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। তবে ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ কোরিয়া আরও বড় ভূমিকা রাখবে কি না, তা পর্যালোচনা করছে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার সিউল ছাড়ার আগে চো বলেছিলেন, বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তিনি প্রক্রিয়াগত কিছু বিষয় পরিষ্কার করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
বিনিয়োগ নিয়ে মূল বাধা বাণিজ্যিক লাভ
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট লি বলেন, প্রস্তাবিত বিনিয়োগ প্যাকেজটি বাণিজ্যিকভাবে কতটা লাভজনক হবে, তা নিয়ে উদ্বেগই আলোচনার অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে দুই দেশ সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলেও জানান তিনি।
লি বলেন, প্যাকেজটির কিছু বিষয় সিউলের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন। তারপরও দক্ষিণ কোরিয়ার স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সরকার আলোচনা চালিয়ে যাবে, যা দুই দেশের পাশাপাশি বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্কের জন্যও উপকারী হবে।
গত বছর দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর বিনিময়ে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত হয়।
লি জানান, চুক্তির খসড়ায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ‘বাণিজ্যিকভাবে যৌক্তিক’—এই বিষয়টি উল্লেখ করার ওপর জোর দিয়েছে সিউল।
বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, রুবিও ও চো উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার লক্ষ্যে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে আলোচনা আবার শুরু হলে সিউল সক্রিয়ভাবে তা সমর্থন করবে।
প্রেসিডেন্ট লি শুক্রবার বলেছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে শীর্ষ বৈঠক হতে পারে। তবে এমন বৈঠক আদৌ হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সূত্র: ডন