সংবাদ শিরোনাম

হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের

 প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের ইরানে হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, পাল্টা জবাবের হুমকি ইরানের--ছবি সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থে হামলার হুমকি দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো মার্কিন অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ড বা স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া দেশগুলোকেও সতর্ক করেছে দেশটি।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেয়। কয়েক মাস ধরে সরাসরি সামরিক সংঘাত তুলনামূলক কম থাকার পর নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি তেহরানের

ইরানের সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ফের ইরানে হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট স্বার্থগুলো পাল্টা আক্রমণের আওতায় আসবে।

এ ছাড়া যেসব আঞ্চলিক দেশ ওয়াশিংটনকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ড বা স্থাপনা ব্যবহারের অনুমতি দেবে, তাদেরও সতর্ক করেছে তেহরান। ইরানের ভাষ্য, এমন দেশগুলোকে হামলার সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে এবং তাদের বিরুদ্ধেও প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

সামরিক অভিযান, অর্থনৈতিক চাপ নাকি চুক্তি?

ইরান নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার ফক্স নিউজকে বলেন, তিনি বর্তমানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছেন।

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে তাঁর সামনে তিনটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে—নতুন সামরিক অভিযান, অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো অথবা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। সেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহও প্রকাশ করেছেন তিনি।

নিউইয়র্কের পথে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে রোববার সন্ধ্যায় তেহরান ছাড়েন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে তিনি কাতারে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করবেন।

অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আইনপ্রণেতাদের বলেছেন, কূটনৈতিক আলোচনায় যাওয়ার আগে সামরিক শক্তির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করা প্রয়োজন।

তাঁর বক্তব্য, সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে অর্জন নিশ্চিত করার পর কূটনীতির সাহায্যে তা ধরে রাখার চেষ্টা করা উচিত।

আলোচনা শুরুর আগে ইরানের তিন শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরুর বিষয়ে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের কাছে নিজেদের শর্ত তুলে ধরেছে তেহরান।

ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ করা।

  • বিদেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ছাড় করা।

  • ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা।

গালিবাফ আরও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন আগের একটি চুক্তির আওতায় ইরানকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

কূটনীতির দরজা খোলা, যুদ্ধের প্রস্তুতিও চলছে

তেহরান থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা তৌহিদ আসাদির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের কর্মকর্তারা একই সময়ে দুটি অবস্থান তুলে ধরছেন।

একদিকে তাঁরা আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করছেন না। অন্যদিকে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে তা মোকাবিলার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।

কাতারও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে। দোহার কর্মকর্তারা বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে যোগাযোগ করে সম্ভাব্য সমঝোতার পথ খুঁজছেন বলে জানা গেছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তাঁরা এমন আশ্বাস পেয়েছেন যে ওয়াশিংটন একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী।

হরমুজ প্রণালিতে কমেছে জাহাজ চলাচল

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতেও।

পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই জলপথ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট।

জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে মাত্র ১২টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর আগের সপ্তাহান্তে এই সংখ্যা ছিল ৩৫টি।

জাহাজ চলাচলে এই পতন ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

সমঝোতার মেয়াদ শেষ, ফের বাড়ছে উত্তেজনা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর সংঘাত শুরু হয়। জুনে দুই পক্ষের মধ্যে ৬০ দিনের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর ফলে বড় আকারের সামরিক লড়াই কিছুটা কমে আসে।

তবে গত মাসে ওই সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা ও হামলা আবারও বেড়েছে।

রিপাবলিকান কৌশলবিদ ও সাবেক হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা মার্ক ফাইফল আল জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমানে একটি অচলাবস্থার মধ্যে আটকে আছে।

তাঁর মতে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠককে সামনে রেখে সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরুর আগে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাপ বাড়াচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা