ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষায় ২.৬৮ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র অনুমোদন
ছবি -সংগৃহীতআন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ইউক্রেনের কাছে সম্ভাব্য ২ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারের আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। শুক্রবার দেওয়া এই অনুমোদনের কথা মার্কিন কংগ্রেসকে জানানো হয়েছে।
কংগ্রেসে পাঠানো নোটিশে পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ইউক্রেন সরকারের কাছে সম্ভাব্য ‘ফরেন মিলিটারি সেল’ অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নের সরঞ্জাম, সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন ধরনের সেবা কেনার সুযোগ পাবে ইউক্রেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতি অনুযায়ী, ইউক্রেন সরকার এস-৩০০ ক্লোন ক্ষেপণাস্ত্র, জিএএম-৬৭ ক্ষেপণাস্ত্র এবং রেঞ্জ-এক্সটেন্ডেড এয়ার ডিফেন্স লেজার-গাইডেড রকেট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কিনতে চেয়েছে। প্রস্তাবিত প্যাকেজে বিভিন্ন ধরনের লঞ্চার, ড্রোন প্রতিরোধী রাডার, ট্রেলার এবং খুচরা যন্ত্রাংশও রয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তি চূড়ান্ত হলে এর অর্থায়ন করা হবে ইউরোপীয় দেশগুলোর দেওয়া অর্থ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় বরাদ্দ করা মার্কিন ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিংয়ের সমন্বয়ে। তবে অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাবটি এখনো কংগ্রেসের পর্যালোচনার মুখোমুখি হবে।
এদিকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রুশ হামলার তীব্রতা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। গোলাবারুদের ঘাটতির কারণে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব হামলা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে।
চলতি মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তাঁর প্রশাসনের পূর্বসূরি বাইডেনের সময় ইউক্রেনকে দেওয়া মার্কিন সহায়তার অর্থ ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে ফেরত নেওয়ার উদ্যোগ তিনি নেবেন। পশ্চিমা দেশগুলোর ইউক্রেনকে দেওয়া সহায়তার ব্যয়ের আরও বড় অংশ ইউরোপকে বহন করতে হবে-এ দাবি ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছেন।
শুক্রবার ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে নতুন নিষেধাজ্ঞার বিধানসংবলিত একটি বিলে সই করেছেন ট্রাম্প। কয়েক মাসের বিলম্বের পর কংগ্রেস অনুমোদন দেওয়ার পর বিলটি তাঁর কাছে যায়।
প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে নামকরণ করা আইনটি রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং দেশটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে।
তবে নতুন নিষেধাজ্ঞার জবাবে রাশিয়ার পক্ষ থেকেও কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত এসেছে। রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ শনিবার টেলিগ্রামে বলেন, সমুদ্রের ওপার থেকেও তারা কেবল সরাসরি সামরিক প্রতিরোধের ভাষাই বোঝে। তাঁর ভাষায়, ‘গ্রাহাম’কে ঘিরে তথাকথিত রুশবিদ্বেষী নৃশংসতার মতো কর্মকাণ্ডের জবাবও সেই ভাষাতেই দেওয়া উচিত।
মেদভেদেভ আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞার জবাবে রাশিয়ার পদক্ষেপের মধ্যে ‘সামরিক প্রতিরোধ’ থাকা উচিত। তবে তিনি এর অর্থ কী বা কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
সূত্র: সিবিএস নিউজ