সংবাদ শিরোনাম

বেলুচিস্তানের কালাতে মহাসড়কে অভিযান, ২৩ জিম্মি উদ্ধার ও পাঁচজন নিহত

 প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

বেলুচিস্তানের কালাতে মহাসড়কে অভিযান, ২৩ জিম্মি উদ্ধার ও পাঁচজন নিহত ছবি -সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বেলুচিস্তানের কালাতের কাছে এন-২৫ করাচি-চামান মহাসড়কের পাশে একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ সন্ত্রাসীকে হত্যা এবং অপহৃত ২৩ জনকে উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। রোববার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর)।

আইএসপিআর জানায়, ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী রাতে ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান’-এর সদস্যরা এন-২৫ মহাসড়কে একটি চেকপোস্ট বসিয়ে মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং যানবাহন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ওই চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে সামরিক বাহিনী। এন-২৫ মহাসড়কটি ‘পাকিস্তান এক্সপ্রেসওয়ে’ নামেও পরিচিত।

বিবৃতিতে বলা হয়, খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অভিযান চালায়। তীব্র গোলাগুলির পর ভারত-সমর্থিত ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান’-এর পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে আইএসপিআর।

পাকিস্তান সরকার বেলুচিস্তানভিত্তিক কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করে। এর মাধ্যমে পাকিস্তানে সন্ত্রাস ও অস্থিতিশীলতার পেছনে ভারতের কথিত ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।

আইএসপিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, কালাতের কাছে সন্ত্রাসীদের আস্তানা থেকে ২৩ অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেখান থেকে ছয়টি ট্রাক, তিনটি বাস ও দুটি গাড়িও উদ্ধার করা হয়। বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরকও পাওয়া গেছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

আইএসপিআর বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান’-এর ভারত-সমর্থিত সদস্যদের পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং জাতীয় মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আশপাশের এলাকায় এখনো তল্লাশি ও অভিযান চলছে। সেখানে আরও কোনো সন্ত্রাসী লুকিয়ে আছে কি না, তা খুঁজে দেখা হচ্ছে।

জাতীয় অ্যাকশন প্ল্যানের ফেডারেল অ্যাপেক্স কমিটির অনুমোদিত ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ পরিকল্পনার আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পূর্ণ শক্তিতে চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে আইএসপিআর। বিদেশি মদদ ও সহায়তায় পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এ কারণে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের মাসিক পর্যালোচনা অনুযায়ী, প্রদেশটিতে জুলাইয়ে ৮৩টি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৯টিতে, অর্থাৎ এক মাসে হামলার সংখ্যা ৭ শতাংশ বেড়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক অভিযানের খবর জানিয়েছে আইএসপিআর ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী রাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সন্ত্রাসীরা পিশিন জেলার জিয়ারাত ক্রস এলাকায় এন-৫০ জাতীয় মহাসড়কের পাশে অবস্থিত কাস্টমস হাউসে সমন্বিত হামলা চালায়। এর জবাবে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১০ সন্ত্রাসী নিহত হয়। গোলাগুলিতে দুই কর্মকর্তাসহ ছয়জন নিহত হন বলে জানিয়েছিল আইএসপিআর।

৩১ আগস্টই চাগাই জেলার নকচা এলাকায় এন-৪০ কোয়েটা-তাফতান মহাসড়ক অবরোধ করে চাঁদাবাজির জন্য একটি অবৈধ চেকপোস্ট স্থাপন করেছিল ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান’-এর ১১ সদস্য। তীব্র গোলাগুলির পর তাদের সবাই নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছিল সামরিক বাহিনী।

২ সেপ্টেম্বর কালাত জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এক অভিযানে (আইবিও) ১২ সন্ত্রাসী নিহত হয় বলে জানায় নিরাপত্তা বাহিনী। এর কয়েক দিন পর খারান ও ওয়াশুক জেলায় পৃথক দুটি অভিযানে আরও ১১ সন্ত্রাসী নিহত এবং ২ দশমিক ৯ টন বিস্ফোরক উদ্ধারের খবর দেওয়া হয়।

৪ সেপ্টেম্বর আইএসপিআর জানায়, মাস্তুং, কোয়েটা, কালাত ও সিবি জেলায় একাধিক ‘দ্রুতগতির’ অভিযানে আরও ৩৬ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এসব অভিযানের মধ্যে সিবির ভাগ এলাকায় একটি পুলিশ স্টেশনে হামলার চেষ্টাও নস্যাৎ করার দাবি করা হয়।

বৃহস্পতিবার বেলুচিস্তানের আওরান জেলার বদরাং এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে সাত সন্ত্রাসী নিহত হয় বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়। শুক্রবার প্রদেশটির পাঞ্জগুর ও কাচ্চি জেলায় দুটি পৃথক অভিযানে আরও সাত সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার খবর দেওয়া হয়।

শনিবার ‘অপারেশন রাদ্দুল ফিতনা-৩’-এর আওতায় পাঞ্জগুর ও চাগাই জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে আরও ১১ সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়।

সূত্র: ডন