ব্যাটিং ব্যর্থতায় ব্রোঞ্জ জেতা হলো নারী ক্রিকেট দলের
ক্রীড়া প্রতিবেদক
আরেকটি ব্যাটিং ব্যর্থতা, আরেকটি পরাজয়। তাতে করে শেষ হলো নারী জাতীয় দলের এশিয়ান গেমসের এবারের আসর। আর এই পরাজয়ে শেষ হলো অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্ব অধ্যায়। এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটে এবার কোনো পদক জিততে পারল না টাইগ্রেসরা। তৃতীয় স্থান তথা ব্র্রোঞ্জ পদক নির্ধারণী ম্যাচে পাকিস্তানের সামনে তেমন লড়াই করতেই পারল না দল। ফলে এশিয়া কাপের পর এশিয়ান গেমসেও খালি হাতে শেষ হলো তাদের অভিযান। জাপানের নিশিনে মঙ্গলবার সকালের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩১ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করতে নেমে ১৪৫ রানের পুঁজি পায় পাকিস্তান। পরে বাংলাদেশকে ১১৪ রানে আটকে রেখে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে তারা। বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে এটি ছিল জ্যোতির শেষ ম্যাচ। এশিয়ান গেমস শুরুর আগেই এই সংস্করণের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটার। সাম্প্রতিক সময়ের আরও অন্যান্য ম্যাচের মতো জ্যোতির নেতৃত্বের বিদায়ী ম্যাচেও বাংলাদেশকে হারের সামনে ঠেলে দিয়েছে ব্যাটিং ব্যর্থতা। ১৪৬ রানের লক্ষ্যে পুরো ইনিংসে একবারও মনে হয়নি ম্যাচটি জিততে পারে বাংলাদেশ।
সব মিলিয়ে জ্যোতির নেতৃত্বে ৮২টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ৩২ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ, হেরেছে ৪৯ ম্যাচ। আর ফল আসেনি এক ম্যাচে। ২০২৩ সালে হওয়া হাংজু এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছিল বাংলাদেশ। এবারও একই ম্যাচে মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে যেন প্রতিশোধই নিল পাকিস্তান। অথচ টস হেরে ফিল্ডিং করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল সম্ভাবনাময়। যদিও পাওয়ার প্লেতে কোন উইকেট না হারিয়ে ৪৪ রান করে ফেলে পাকিস্তান। তবে এরপর তাদের চেপে ধরে বাংলাদেশ। পরের ৬ ওভারের মধ্যে আর মাত্র ২৩ রান করতেই ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান। মাত্র ৬৭ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর পাল্টা আক্রমণ করেন পাকিস্তান অধিনায়ক ফাতিমা সানা। আলিয়া রিয়াজের সঙ্গে মিলে ষষ্ঠ উইকেটে তিনি গড়েন ৪৩ বলে ৬৭ রানের জুটি। চাপ সামলে লড়াইয়ের পুঁজি পেয়ে যায় পাকিস্তান। ৩টি করে চার-ছক্কায় ৩০ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন ফাতিমা। আলিয়ার ব্যাট থেকে আসে ১ চার ও ২ ছক্কায় ২২ বলে ২৫ রান। বাংলাদেশের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন নাহিদা আক্তার, স্বর্ণা আক্তার ও রিতু মনি। ৩ ওভারে ২৬ রান খরচের পর মারুফা আক্তারকে আর চতুর্থ ওভারের জন্য ডাকেননি জ্যোতি। পরে রান তাড়ায় শুরু থেকেই নিয়মিত উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
পাওয়ার প্লে-র মধ্যে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন দিলারা আক্তার (১২), জুয়াইরিয়ার ফেরদৌস জয়িতা (৪) ও সোবহানা মোস্তারি (২)। মাত্র ২০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। শুরুর ধাক্কা সামলে ৪৭ রানের জুটি গড়েন জ্যোতি ও শারমিন আক্তার সুপ্তা। তবে এজন্য তারা খেলে ফেলেন ৫৬ বল। আর তাতেই ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় বাংলাদেশ। নিজের অধিনায়কত্বের শেষ ম্যাচে ২৫ রান করতে ৩০ বল খেলেন জ্যোতি। অধিনায়কের বিদায়ের পর একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে একশ পার করান সুপ্তা। একবারও মনে হয়নি ম্যাচটি জিততে পারে বাংলাদেশ। বরং পুরো ২০ ওভার কাটিয়ে দেওয়াই যেন ছিল দলের লক্ষ্য। সেই কাজে অবশ্য সফল সুপ্তা। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৪ চারে ৪৫ বলে ৪৬ রান করেন অভিজ্ঞ ব্যাটার সুপ্তা। শেষ দিকে নাহিদার ব্যাট থেকে আসে ৬ বলে ১০ রান। পাকিস্তানের পক্ষে ৪ ওভারে এক মেডেনসহ মাত্র ১০ রানে ৩ উইকেট নেন অফ স্পিনার উম্মে হানি। একই মাঠে স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ভারত সেরা হয়েছে।
এদিকে হারের ব্যাখ্যা দিয়ে কোচ সারোয়ার ইমরান বলেন, ’অধিনায়ক-কোচকে সাইজ করে কী আশা করেন সেটা পরিস্কার করা প্রয়োজন’। বেশ অনেকদিন ধরেই ভালো করছে না বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এশিয়া কাপে ভরাডুবির পর এশিয়ান গেমসে গিয়ে হয়েছে আরও বেহাল দশা। কোন জয় ছাড়াই দেশে ফিরছেন জ্যোতিরা। কেন দলের এই হাল জবাব দিতে গিয়ে বিসিবির দিকে ইঙ্গিত করলেন বিদায়ী প্রধান কোচ সারওয়ার ইমরান বলেন, ‘টুর্নামেন্ট চলাকালীন এটা হওয়া (নতুন কোচের খবর, অধিনায়ক বিদায়)... আমরা একটা টুর্নামেন্ট খেলছি, হেড কোচ আর ক্যাপ্টেনদের আপনি সাইজ করে দিলেন, তো কীভাবে আপনি আশা করেন?’ অধিনায়ক জ্যোতি নিজে থেকে পদত্যাগ করায় বিসিবি বরং বিব্রত বলে শোনা গেছে। তবে দলের পারফরম্যান্সে উন্নতি না হওয়ায় দেশি কোচ বদলে বিদেশি কোচের প্রয়োজনীয়তা টের পাচ্ছে বোর্ড। এশিয়ান গেমসে সেমিফাইনালে ভারতের কাছে বিশাল হারের পর পাকিস্তানের কাছেও ধরাশায়ী হয়ে হতাশ বাংলাদেশের মেয়েরা।