মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান-এর জীবনবৃত্তান্ত
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান-এর জীবনবৃত্তান্ত
ঢাকা, ২৬ চৈত্র (৯ এপ্রিল)
আহমেদ আযম খান, এমপি একজন দক্ষ আইনজীবী ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, যিনি বাংলাদেশের আইনাঙ্গন ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে অবদান রেখে চলেছেন। তাঁর নেতৃত্বগুণ, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পেশাগত অভিজ্ঞতায় তিনি একজন শক্তিশালী ও সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি ১৪ জানুয়ারি ১৯৫৭ সালে টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলার বাসাইল গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মরহুম হাবিবুর রহমান খান ও মরহুমা বেগম সাজেদা খাতুন দম্পতির জ্যেষ্ঠ সন্তান। পেশাগত জীবনে আহমেদ আযম খান, এমপি বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত আইনজীবী এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রথিতযশা সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইন পেশায় সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর), সংসদীয় আসন নং ১৩৭ থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি নেতৃত্ব, নীতি নির্ধারণ এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একজন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় নেতা এবং বর্তমানে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি জাতীয়তাবাদী ট্যাক্স ল'য়ার্স ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ১৯৬৭ সালে রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি। ছাত্রজীবনে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে তিনি আঞ্চলিক পর্যায়ে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি আঞ্চলিক সংগঠক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের শেষ তিন মাস সামাদ কামার প্লাটুনে থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। তিনি বাসাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির নির্বাচিত সভাপতি ও তিন বার আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন-এর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে শিক্ষাজীবনে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৮ সালে বি.এস.এস (অনার্স), ১৯৭৯ সালে এম.এস.এস এবং ১৯৮২ সালে এল.এল.বি ডিগ্রি অর্জন করেন।
আহমেদ আযম খানের স্ত্রী বেগম নার্গিস সিদ্দিকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি এল.এল.বি (অনার্স) ও এল.এল.এম ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি ‘আযম খান এন্ড এসোসিয়েটস ও খান এন্ড সিদ্দিক’স-এর ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আহমেদ আযম খান দুই কন্যা সন্তানের জনক। তাঁদের মধ্যে বড় মেয়ে ড. আনান হাবিবা সিদ্দিকা ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টমিনিস্টার, লাঊস, ইউকে থেকে ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত আছেন। ছোট মেয়ে ব্যারিস্টার অদ্রি আফিফা সিদ্দিকা ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট মিনিস্টার থেকে অনার্স, ইউনিভার্সিটি অব কুইন মেরি থেকে মাস্টার্স এবং ইউনিভার্সিটি অব গ্রেজ ইন থেকে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় কর্মরত আছেন।