কঙ্গোতে ইবোলা সংক্রমণ ৫ হাজার ছাড়িয়ে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা

 প্রকাশ: ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৫২ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

কঙ্গোতে ইবোলা সংক্রমণ ৫ হাজার ছাড়িয়ে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা সংক্রমণ ৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। পরিস্থিতিকে এখনো ‘বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে বিবেচনা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি বলেছে, রোগটি নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং নতুন সংক্রমণের ধারাবাহিকতা এখনো শনাক্ত হচ্ছে।

মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকের পর ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তার আহ্বান জানান। এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৩২০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

টেড্রোস বলেন, ‘সত্যি বলতে হবে, মহামারি এখনো নিয়ন্ত্রণের কাছাকাছিও যায়নি।’ তার ভাষ্য, ইবোলা অনেকটা এগিয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বাস্থ্যকর্মীরা এখনো সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছেন।

এটি ডিআর কঙ্গোতে ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব এবং দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী। ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবে ২ হাজার ২৯৯ জন মারা গিয়েছিল। এবার সেই সংখ্যাও ছাড়িয়ে গেছে।

টিকা ও চিকিৎসার সংকট

এবারের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে কয়েকটি কারণে। বর্তমানে বুন্দিবুগিও নামে পরিচিত ইবোলার এই ধরনটির বিরুদ্ধে কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা নেই।

এর সঙ্গে খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ ডিআর কঙ্গোর চলমান সংঘাতও রোগ নিয়ন্ত্রণের কাজকে কঠিন করে তুলেছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি মানুষের অবিশ্বাস, রোগ নিয়ে ভুল তথ্য এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক রীতিনীতিও পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাধা তৈরি করছে।

টেড্রোস মঙ্গলবার সতর্ক করে বলেন, ইবোলা ‘অভূতপূর্ব গতিতে’ ছড়িয়ে পড়ছে। কোথায় কোথায় মৃত্যু ঘটছে, তার তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝা যাচ্ছে, সংক্রমণের কিছু ধারাবাহিকতা এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, সংক্রমণের প্রতিটি ধারাবাহিকতা শনাক্ত করে বন্ধ না করা পর্যন্ত এই মহামারি চলতে থাকবে।

মোটরসাইকেল চালকদেরও নজরদারিতে যুক্ত করা হচ্ছে

ডব্লিউএইচওর চিকিৎসক থিয়েরন বালদে সাংবাদিকদের বলেন, রোগী ও মৃতদেহ পরিবহনসহ বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকায় মোটরসাইকেল চালকদের এখন রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তাদের জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ও জীবাণুনাশক সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি রোগের লক্ষণ ও নতুন সংক্রমণ শনাক্ত এবং প্রতিরোধে তাদের নজরদারি ও প্রতিক্রিয়া দলের সদস্য হিসেবে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে।

রোগ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও জোর দিচ্ছে ডব্লিউএইচও।

প্রাদুর্ভাবের শুরু আরও আগে

ইবোলার প্রাদুর্ভাব আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় গত ১৭ মে। তবে রোগীদের নমুনার জেনেটিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এর বিস্তার শুরু হয়েছিল আরও প্রায় তিন মাস আগে, ফেব্রুয়ারিতে।

বুন্দিবুগিও ধরনটির বিরুদ্ধে পরীক্ষামূলক একটি টিকার প্রথম স্বেচ্ছাসেবী গত মাসে যুক্তরাজ্যে টিকা নিয়েছেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের তৈরি এই টিকার কয়েক লাখ ডোজ ইতিমধ্যে ভারতে উৎপাদন করা হয়েছে।

পরীক্ষার ফল সফল হলে এসব টিকা দ্রুত ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement