লিগ্যাল প্রফেশনকে মর্যাদাপূর্ণ ও আধুনিক পেশায় রূপ দিতে কাজ করছে সরকার: আইনমন্ত্রী

 প্রকাশ: ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

লিগ্যাল প্রফেশনকে মর্যাদাপূর্ণ ও আধুনিক পেশায় রূপ দিতে কাজ করছে সরকার: আইনমন্ত্রী

ঢাকা, ৩ ভাদ্র (১৮ আগস্ট):

দেশের আইন পেশাকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও আধুনিক করে তুলতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এমন একটি পেশাগত পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে নতুন প্রজন্মের মেধাবী শিক্ষার্থীরা আইন পেশায় আসতে আগ্রহী হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর রমনা এলাকায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবনে ঢাকা ব্যাংকের একটি নতুন সাব-ব্রাঞ্চের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, আইনজীবীদের শুধু সনদ অর্জন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা নিয়মিতভাবে উন্নত করা প্রয়োজন। অন্যান্য পেশার মতো আইনজীবীদের জন্যও প্রাতিষ্ঠানিক ও মানসম্মত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

তিনি জানান, চলতি বছর আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে এই বরাদ্দ আরও বাড়ানো হতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তা ও বিচারকদের চাকরিতে প্রবেশের পর নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু আইনজীবীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণের সুযোগ এখনও পর্যাপ্ত নয়। সাধারণত সনদ পাওয়ার পর একজন নবীন আইনজীবী সিনিয়রের সঙ্গে কাজের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এই অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আইন, বিচার ও পেশাগত দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করতে বার কাউন্সিলের কার্যকর প্রশিক্ষণ কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।

ব্যাংক ঋণ বিতরণে অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ

ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঋণ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করার পরও কোনো উদ্যোক্তাকে সময়মতো অর্থ ছাড় না করা অত্যন্ত হতাশাজনক। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্রাহকের সম্পত্তি বন্ধক রাখার পাশাপাশি চেক গ্রহণ করলেও ঋণের অর্থ যথাসময়ে দেওয়া হয় না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আইনি ও আর্থিক সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে যারা অর্থ বিদেশে পাচার করে এবং সেই অর্থে বিলাসবহুল সম্পদ গড়ে তোলেন, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। তবে এ ধরনের পদক্ষেপ যেন কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে চিহ্নিত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

জুনিয়র ব্যাংকারদের আইনি ঝুঁকি কমানোর আহ্বান

ব্যাংকের অপেক্ষাকৃত নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইনি ঝুঁকির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করেই জুনিয়র কর্মকর্তারা ঋণসংক্রান্ত ফাইলের প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে কোনো ঋণ অনিয়ম বা আর্থিক দুর্নীতির ঘটনায় মামলা হলে সংশ্লিষ্ট ফাইলে স্বাক্ষর থাকার কারণে ওই জুনিয়র কর্মকর্তাকেও আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়।

চাকরি রক্ষার স্বার্থে ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশ পালন করা কর্মকর্তাদের যেন অযৌক্তিক আইনি ঝুঁকিতে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে নীতিগত সমাধান খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বার কাউন্সিলে অডিট ও জবাবদিহি জোরদার

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথাও জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ অডিটের পাশাপাশি বহিরাগত অডিটের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বার কাউন্সিলের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার বার কাউন্সিলকে একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় ‘রুলস অব বিজনেস’-এর আওতায় বার কাউন্সিলের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দেশের আইন পেশাকে আরও উন্নত ও মর্যাদাপূর্ণ পর্যায়ে নিতে বার কাউন্সিলের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

তিনি বলেন, বার কাউন্সিলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র কিংবা অনিয়ম-দুর্নীতির ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার কোনো সুযোগ নেই। বরং শিক্ষা, মেধা, প্রজ্ঞা, পরিশ্রম এবং পেশাগত দক্ষতার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে এমন পর্যায়ে নিতে হবে, যা আইন শিক্ষার্থী ও তরুণ আইনজীবীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান বার কাউন্সিল নেতৃত্ব তরুণ, উদ্যমী ও দক্ষ। সম্মিলিত উদ্যোগ এবং সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে দেশের আইন শিক্ষার্থী ও নবীন আইনজীবীদের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত ও সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এমপি, অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোঃ রুহুল কুদ্দুস কাজল, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মোঃ বদরুদ্দোজা বাদল এবং ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement