মৎস্য খাতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ, এবার রপ্তানি সম্প্রসারণে জোর

 প্রকাশ: ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৯ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

মৎস্য খাতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ, এবার রপ্তানি সম্প্রসারণে জোর

ঢাকা, ১৮ আগস্ট:

দেশের মৎস্য খাত অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে। এখন উৎপাদনের পাশাপাশি মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর দিকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে অধিদপ্তর আয়োজিত ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের মাছের চাহিদা পূরণে মৎস্য খাত ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। উৎপাদন সক্ষমতা আরও কাজে লাগিয়ে এখন বিদেশের বাজারে বাংলাদেশের মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের অবস্থান শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিতে হবে। এর মাধ্যমে রপ্তানি আয় বাড়ানোর পাশাপাশি মৎস্য খাতকে আরও সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক খাতে পরিণত করা সম্ভব হবে।

এবার জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় আয়োজন ঢাকার পরিবর্তে কিশোরগঞ্জে করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের মৎস্য উৎপাদনে হাওরাঞ্চলের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিঠাপানির মাছের বড় একটি অংশ এ অঞ্চল থেকে উৎপাদিত হয়। তাই ঢাকাকেন্দ্রিক আয়োজনের বাইরে গিয়ে হাওর এলাকার মৎস্যচাষি, জেলে এবং এ খাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত মানুষের কাছে মৎস্য উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই কিশোরগঞ্জে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।

মৎস্য খাতের উন্নয়নে অতীতের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাল খনন, নদী সংস্কারসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও মৎস্য খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও কৃষি ও মৎস্য খাতকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছেন।

জাতীয় মৎস্য পক্ষের আয়োজন সফল করতে মৎস্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব আলাদা হলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। হাতের পাঁচ আঙুলের মতো সবার দায়িত্ব ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সবাই একসঙ্গে কাজ করলে তা মুষ্টিবদ্ধ হাতের মতো শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এবারের মৎস্য পক্ষও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগে সফল হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্র যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করতে হবে। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা কিংবা কাজে গাফিলতি গ্রহণযোগ্য নয়। প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজ নিজ মেধা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’এই চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বড় কোনো লক্ষ্য একক প্রচেষ্টায় অর্জন করা কঠিন। দক্ষ, সৎ ও আন্তরিক একটি দল থাকলে কঠিন কাজও সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। তাই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মৎস্য খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করতে মৎস্য অধিদপ্তরের ভূমিকা আরও বিস্তৃত হবে।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও মৎস্যচাষি, জেলে ও মৎস্য খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement