টেকসই উন্নয়নের শর্ত সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা: তথ্যমন্ত্রী
ঢাকা, ১৮ আগস্ট:
দেশের টেকসই উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতির জন্য সমাজ ও
রাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেছেন, বৈষম্য রেখে কোনো সমাজের টেকসই অগ্রগতি সম্ভব
নয়। ইতিহাস ও বিজ্ঞানের অভিজ্ঞতা দেখায়, সমতার ভিত্তিতে মানুষের সম্ভাবনা বিকাশের
সুযোগ তৈরি করতে পারলেই একটি দেশ স্থায়ী উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংলাপে প্রধান
অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), জার্মান
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা সংস্থা জিআইজেড এবং নরওয়ে সরকারের যৌথ উদ্যোগে
‘ইনফরমেশন ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন ইন বাংলাদেশ: পলিসি, প্ল্যাটফর্ম
অ্যাকাউন্টাবিলিটি অ্যান্ড কালেক্টিভ অ্যাকশন’ শীর্ষক সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে বাংলাদেশে
গণমাধ্যম ও তথ্যপ্রবাহের পরিধি ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে। একদিকে মানুষের কাছে
তথ্য পৌঁছানোর সুযোগ বাড়ছে, অন্যদিকে ভুল তথ্য, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার
মতো নতুন ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তথ্যের অবাধ প্রবাহের পাশাপাশি এর
নির্ভরযোগ্যতা, সত্যতা ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতির
ফলে যোগাযোগব্যবস্থা আরও গতিশীল হয়েছে। তবে প্রযুক্তির সুফল নিশ্চিত করতে হলে এর
নেতিবাচক ব্যবহারের ঝুঁকিও বিবেচনায় নিতে হবে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার,
গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ
প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জহির
উদ্দিন স্বপন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সামাজিক সংহতি
রক্ষায় যেসব কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে
সামঞ্জস্য রেখে কাজে লাগানো যেতে পারে। পাশাপাশি দেশের নিজস্ব সক্ষমতা ও নীতিগত
কাঠামোও শক্তিশালী করতে হবে।
প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের সম্ভাব্য ঝুঁকি তুলে ধরতে
ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের উদাহরণ দেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি সতর্ক করে বলেন, মানুষের তৈরি
প্রযুক্তি যদি একসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে সেটিই ভবিষ্যতে
মানুষের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রযুক্তির ব্যবহার হতে হবে
মানবকল্যাণ, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে।
গণমাধ্যম ও তথ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকারের বিভিন্ন
উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ খাতে কার্যকর পরিবর্তন আনতে গবেষণা, নীতি
প্রণয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে একই কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা
প্রয়োজন।
নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তিকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহারের ওপর
গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং
ডেটাভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে
প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সুফল পেতে এর ব্যবহার সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট
সবাইকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা
এবং জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার—এই তিনটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।
তাই একদিকে গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে তথ্য পরিবেশনের
ক্ষেত্রে পেশাগত দায়িত্বশীলতা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাও বজায় রাখতে হবে।
গণমাধ্যমকর্মীদের পরিবর্তিত প্রযুক্তি ও তথ্যব্যবস্থার সঙ্গে
নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা উন্নয়নের
মাধ্যমে গণমাধ্যমকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব করে তুলতে হবে।
ইউএনডিপির উদ্যোগের প্রশংসা করে জহির উদ্দিন স্বপন আশা প্রকাশ
করেন, এ ধরনের সংলাপ বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাতের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণ, তথ্যের
বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সংহতি জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সংলাপে
ইউএনডিপির প্রতিনিধি, গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী
প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।