সাংবাদিকতায় এআই: প্রযুক্তির সাথে পেশাদারিত্বের নতুন মেলবন্ধনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি
নিজস্ব প্রতিবেদক
দ্রুত পরিবর্তনশীল আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকতাকে আরও শাণিত ও যুগোপযোগী করতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। প্রযুক্তির জয়যাত্রায় পিছিয়ে না থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে পেশাগত কাজে ব্যবহারের লক্ষ্যে সংগঠনটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী এক নিবিড় প্রশিক্ষণ কর্মশালা। 'এআই-পাওয়ার্ড জার্নালিজম: অপরচুনিটিজ, রিক্সস এন্ড ডিজিটাল সিকিউরিটি' শিরোনামের এই আয়োজনটি গত ২ মে থেকে শুরু হয়ে চলবে আগামী ৮ মে পর্যন্ত।
সকাল হতেই ডিআরইউ চত্বরে চোখে পড়ছে সংবাদকর্মীদের এক অন্যরকম ব্যস্ততা। প্রথাগত রিপোর্টিংয়ের গণ্ডি পেরিয়ে প্রযুক্তির অবারিত দ্বার উন্মোচনে উন্মুখ হয়ে আছেন নবীন-প্রবীণ সদস্যরা। এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশ ও গেমপ্লিফাই-এর কারিগরি সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালায় মোট সাতটি ব্যাচে ভাগ হয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন সদস্যরা। যেখানে খাতা-কলমের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ল্যাপটপ আর স্মার্টফোনের পর্দা।
প্রশিক্ষণের প্রতিটি ধাপ সাজানো হয়েছে সাংবাদিকতার বাস্তব প্রয়োগের কথা মাথায় রেখে। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা হাতে-কলমে শিখছেন কীভাবে জেমিনি বা চ্যাটজিপিটির মতো টুল ব্যবহার করে তথ্যের মহাসমুদ্র থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় অংশটি ছেঁকে আনা যায়। রিপোর্ট লেখা, নিখুঁত সম্পাদনা কিংবা পাঠকের মনকাড়া শিরোনাম তৈরিতে এআই কীভাবে একজন সাংবাদিকের দক্ষ সহকারী হয়ে উঠতে পারে, তা ফুটে উঠছে প্রতিটি সেশনে। শুধু কনটেন্ট তৈরিই নয়, বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ 'ডিপফেইক' ও অপতথ্য শনাক্ত করে সত্যকে তুলে ধরার আধুনিক কৌশলগুলোও আয়ত্ত করছেন সাংবাদিকরা।
কর্মশালায় বক্তাদের কথায় উঠে এসেছে পরিবর্তনের অনিবার্য বার্তা। ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল মনে করেন, সাংবাদিকতায় গতি ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে এআই এখন এক অপরিহার্য শক্তি। অন্যদিকে, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মাহফুজুর রহমান সতর্ক করে দিয়েছেন যে, আগামীর তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে তথ্য বিশ্লেষণে এআই ব্যবহারের বিকল্প নেই।
প্রশিক্ষণ সেশনগুলোতে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকরা গুগল ট্রেন্ডস ব্যবহার করে জনরুচি বোঝা, এসইও কৌশলের মাধ্যমে সংবাদকে মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া এবং ডিজিটাল নিরাপত্তার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করছেন। আরিফুল ইসলাম আরমান, মালিহা তাবাসসুম এবং ড. এমডি সাইফুল আলম চৌধুরীর মতো বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণকারীদের হাতে-কলমে শেখাচ্ছেন ডেটা সাংবাদিকতা ও সোশ্যাল মিডিয়া স্টোরিটেলিংয়ের খুঁটিনাটি।
সংগঠনের তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল জানান, ইতিবাচক এই উদ্যোগে সদস্যদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে। ইতোমধ্যেই কয়েকশ সদস্য এই আধুনিক প্রশিক্ষণের সুফল পেতে শুরু করেছেন। ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনসহ কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দের সরব উপস্থিতিতে এই কর্মশালাটি যেন পরিণত হয়েছে সাংবাদিকদের এক জ্ঞান আহরণের উৎসবে। প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন কেবল খবরের মান বাড়াবে না, বরং ডিজিটাল যুগে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে—এমনই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।