জুনেই দিল্লি না কি বেইজিং? প্রধানমন্ত্রীর হাই-প্রোফাইল সফর ঘিরে কূটনীতির নতুন সমীকরণ

 প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

জুনেই দিল্লি না কি বেইজিং? প্রধানমন্ত্রীর হাই-প্রোফাইল সফর ঘিরে কূটনীতির নতুন সমীকরণ

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​আগামী জুনে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক বড় ধরনের আবহ তৈরি হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুনের কোনো এক সময়ে চীন অথবা ভারত সফরে যেতে পারেন—এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বেইজিংয়ের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার প্রাক্কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতির কথা জানান।

​পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চীন ও ভারত—উভয় দেশই বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। আসন্ন জুনে এই দুই বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় প্রতিশ্রুতি রয়েছে। বর্তমানে তিন দেশের সরকারপ্রধানদের সময়ের সমন্বয় করে একটি জুতসই সফরসূচি তৈরির কাজ চলছে। তবে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে কোথায় পা রাখবেন—দিল্লি না কি বেইজিং—তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এখনই শুরু হয়েছে নানামুখী বিশ্লেষণ।

​সীমান্ত ও পশ্চিমবঙ্গ প্রসঙ্গে কড়া বার্তা

সফর ঘিরে আলোচনার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান, যদি ওপার থেকে কোনো ধরনের ‘পুশইন’ বা জোরপূর্বক অনুপ্রেবেশের চেষ্টা চালানো হয়, তবে বাংলাদেশ তা মুখ বুজে সহ্য করবে না। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশও তার উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

​তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও চীন সফর

নিজের চীন সফর নিয়ে আশাবাদী খলিলুর রহমান জানান, বেইজিংয়ের আমন্ত্রণে এই সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে বহুল আলোচিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’। প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলাপ হওয়ার কথা রয়েছে।

​যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সুবাতাস

শুধু প্রতিবেশী দেশ নয়, পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গেও সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, এই চুক্তিতে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অনেক দেশই যুক্ত হয়েছে এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

​কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুনের এই সম্ভাব্য সফর এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বেইজিং যাত্রা বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ বৈদেশিক নীতির এক বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। একদিকে তিস্তা ও উন্নয়ন প্রকল্পে চীনকে পাশে পাওয়া, অন্যদিকে সীমান্তের স্পর্শকাতর ইস্যুতে ভারতকে কড়া বার্তা দেওয়া—সব মিলিয়ে এক রোমাঞ্চকর কূটনৈতিক অধ্যায়ের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement