তিতুমীর কলেজে উত্তাল রাত: ছাত্ররাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের দাবিতে ছাত্রীদের মশালজ্বলা বিদ্রোহ

 প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

তিতুমীর কলেজে উত্তাল রাত: ছাত্ররাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের দাবিতে ছাত্রীদের মশালজ্বলা বিদ্রোহ

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের শান্ত আকাশ হঠাৎ করেই যেন বিদ্রোহের রঙে রাঙিয়ে উঠল। গত মঙ্গলবার রাতে বনানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের সুফিয়া কামাল ছাত্রীনিবাসে ঘটে যাওয়া এক নজিরবিহীন ঘটনা কলেজ প্রশাসনের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ১০টা। সাধারণ ছাত্রীদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে ছাত্রীনিবাসের মূল ফটকের তালা ভাঙার শব্দের মধ্য দিয়ে। ছাত্ররাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের দাবিতে এবং তিন সহপাঠীর বহিষ্কারাদেশের প্রতিবাদে কয়েকশ ছাত্রী রাজপথে নেমে আসেন।

​ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৩ মে, যখন ছাত্রীনিবাসে ছাত্রদলের ১১ সদস্যের একটি রাজনৈতিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের চাওয়া ছিল—ক্যাম্পাস ও হল থাকবে রাজনীতিমুক্ত। এই ঘোষণার পর থেকেই হলের ভেতরে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শিক্ষার্থীদের তীব্র আপত্তির মুখে সেই কমিটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। উল্টো অভিযোগ ওঠে, কোনো প্রকার সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়াই তিন ছাত্রীর হলের সিট বাতিল করে কলেজ প্রশাসন।

​মধ্যরাতে সুফিয়া কামাল ছাত্রীনিবাসের সামনে গিয়ে দেখা যায় এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। ছাত্রীদের কণ্ঠে তখন স্লোগান— ‘ছাত্ররাজনীতির ঠিকানা, এই হলে হবে না।’ বহিষ্কৃত ছাত্রীদের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন। তদন্ত কমিটির নামে যে নাটক সাজানো হয়েছে, তাতে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি। এমনকি কোনো কথা না বলেই মাঝরাতে তাদের হল ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়, যা সাধারণ ছাত্রীদের মধ্যে দাবানলের মতো ক্ষোভ ছড়িয়ে দেয়।

​রাত ১২টা পর্যন্ত চলা এই বিক্ষোভে উত্তাল ছিল তিতুমীর কলেজ এলাকা। আন্দোলনরত ছাত্রীরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, তারা কোনো দলীয় রাজনীতির লেজুড়বৃত্তি এই পবিত্র বিদ্যাপীঠে দেখতে চান না। তাদের দাবি একটাই—অবিলম্বে তিন ছাত্রীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে হবে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে।

​এই সংকটময় মুহূর্তে কলেজের অধ্যক্ষ বা হল প্রশাসনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নিরবতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে। তিতুমীর কলেজের এই আন্দোলন এখন কেবল তিন ছাত্রীর সিট বাতিলের প্রতিবাদ নয়, বরং তা রূপ নিয়েছে ছাত্ররাজনীতিমুক্ত এক সুস্থ ও সুন্দর ক্যাম্পাসের গণদাবিতে। অন্ধকার রাত চিরে ছাত্রীদের এই সাহসী পদযাত্রা যেন রাজধানীর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এক নতুন পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement