ঢাকা–ওয়াশিংটন উন্নয়ন অংশীদারত্বে নতুন গতি, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা বাড়ানোর তাগিদ
ডেক্স নিউজ:
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিতে উভয় পক্ষই আগ্রহী বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, পানি সরবরাহ, কৃষি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও গ্রামীণ যোগাযোগ খাতকে শক্তিশালী করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা, গবেষণা এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন-এর সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারত্বের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রাকে টেকসই করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।” তিনি বিশেষ করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে স্মার্ট প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনী গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরে মন্ত্রী আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানান। একই সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রমে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (PPP) মডেলকে আরও জোরদার করলে টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে আসছে। ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বিশেষ করে কৃষি আধুনিকীকরণ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি—বিশেষ করে সৌরশক্তি খাতে—সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। পাশাপাশি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা ভবিষ্যতে আরও বেগবান হবে।
এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মো. শওকত রশীদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।