তাইফুর রহমান:
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট যখন প্রকট, ‘ডিজেলের অভাবে চলছে না সেচপাম্প, ধানক্ষেত ফেটে চৌচির, উৎকণ্ঠায় কৃষক’ এমন খবর যখন আসছে সারা দেশ থেকে, তখনো ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন মশা নিধনের নামে প্রতিদিন অপচয় করছে ১০ হাজার লিটার ডিজেল। অথচ মশা নিধনের এই ব্যর্থ প্রয়াসের ফলে একদিকে মশার যন্ত্রণা, এমনকি মৃত্যুর হাত থেকেও রেহাই পাচ্ছে না নগরবাসী, ওই দিকে জ্বালানি সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
ঢাকার মশা নিধন কার্যক্রমে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে দেশে ডিজেলের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের ফগিং কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে মশার উপদ্রব আরও বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি জনদুর্ভোগও বাড়তে পারে।
রাজধানীতে উড়ন্ত মশা দমনে প্রতিদিন বিকেলে ফগিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ কাজে ওষুধের সঙ্গে ডিজেল মিশিয়ে ধোঁয়া তৈরি করা হয়। কিন্তু বর্তমানে ঠিকাদাররা প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় ওষুধ প্রস্তুত ও সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) মেলাথিয়ন ব্যবহার করে ফগিং করা হয়। প্রতি লিটার ডিজেলের সঙ্গে ৫ শতাংশ মেলাথিয়ন মিশিয়ে প্রয়োগ করা হয়। ৫৪টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১০০ লিটার মিশ্রণ প্রয়োজন হয়। সর্বশেষ হিসাবে প্রায় ২৭ হাজার লিটার মেলাথিয়ন মজুত রয়েছে, যা দিয়ে আনুমানিক ২৫ দিন কার্যক্রম চালানো সম্ভব।
উত্তর সিটিতে নতুন করে ৩ লাখ ৬০ হাজার লিটার মেলাথিয়ন সরবরাহের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে এই পরিমাণ ওষুধ প্রস্তুতের জন্য প্রায় ৩ লাখ ২৭ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন। ঠিকাদার জানিয়েছেন, ডিজেল সংকটের কারণে উৎপাদন শুরু করা যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় ডিজেল পেলে প্রতিদিন ১৮ হাজার লিটার পর্যন্ত উৎপাদন সম্ভব, আর দুই শিফটে কাজ করলে তা দ্বিগুণ করা যাবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ফগিং কার্যক্রমে ডেলটামেট্রিন ব্যবহার করে। প্রতি লিটার ডিজেলের সঙ্গে ০.১ মিলিলিটার হারে এটি মেশানো হয়। ৭৫টি ওয়ার্ডে কার্যক্রম পরিচালিত হলেও দৈনিক চাহিদা ও মজুদের নির্দিষ্ট হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে তাদের কাছে প্রায় এক মাসের ওষুধ মজুত রয়েছে।
দক্ষিণ সিটিতে ৬ লাখ ২১ হাজার ৫২০ লিটার ডেলটামেট্রিন সরবরাহের জন্য ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ২ লাখ লিটার সরবরাহের কথা রয়েছে। কিন্তু এখানেও ডিজেল সংকটের কারণে সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে।
এদিকে, রাজধানীতে মশার উপদ্রব ইতোমধ্যেই বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ফগিং কার্যক্রম ব্যাহত হলে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারি তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত সংকট সমাধান হলে মশা নিধন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।