বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের উদ্যোগ
ঢাকা, ২ চৈত্র (১৬ মার্চ):
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আজ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগসহ শিক্ষা ব্যবস্থার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হয়েছেন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান চূড়ান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলামকে সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কুয়েটের ভিসি হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছেন অধ্যাপক ড. মোঃ মাসউদ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে অধ্যাপক ড. মো. আল ফোরকানকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। অন্যদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে অধ্যাপক ড. মোঃ ফরিদুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়াও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রইস উদ্দিন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
মন্ত্রী জানান, নতুন উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের গবেষণা, প্রকাশনা, সাইটেশন, একাডেমিক যোগ্যতা, পিএইচডি, পোস্ট-ডক ও সামগ্রিক একাডেমিক পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেক প্রার্থীর একাডেমিক রেকর্ড বিশ্লেষণ করেছি এবং যারা সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তাদেরই সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরো জানান, এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১৮ বছরের শিক্ষকতা অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শিগগিরই জারি করা হবে।
স্কুলে ভর্তি ব্যবস্থায় পরিবর্তনের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা লটারি পদ্ধতি ধাপে ধাপে বাতিল করা হবে এবং ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লটারি পদ্ধতি মেধা যাচাইয়ের কোনো কার্যকর উপায় নয়। অংশীজনদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ ও যুক্তিসঙ্গত পদ্ধতি প্রয়োজন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই পরীক্ষা অত্যন্ত সহজ ও শিশুবান্ধব হবে এবং এতে শিশুদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হবে না। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এমন কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নেওয়া হবে না যা তাদের মানসিক চাপ বাড়ায়। পরীক্ষা হবে খুবই সাধারণ ও মৌলিক দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভর্তি পরীক্ষা চালু হলেও যাতে কোচিং বাণিজ্য বৃদ্ধি না পায় সে বিষয়ে সরকার সতর্ক থাকবে। তিনি জানান, প্রয়োজনে স্কুলের ভেতরেই শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
মন্ত্রী জানান, ক্লাস ফাইভে বৃত্তি পরীক্ষা পুনরায় চালু করা হয়েছে। এই পরীক্ষায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা আনার জন্য কোটাভিত্তিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ২০ শতাংশ কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ থাকবে।
মন্ত্রী বলেন, বৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক সহায়তা পায়, যা অনেক দরিদ্র পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তিনি আরো জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন করা হচ্ছে এবং শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষকদের ন্যূনতম যোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং কমিটির সভাপতির জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক ডিগ্রি নির্ধারণ করা হয়েছে।