সংবাদ শিরোনাম

ঢাকার চারপাশের চারটি নদী দখল ও দূষণমুক্তকরণের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে

 প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৫, ১১:৪০ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

ঢাকার চারপাশের চারটি নদী দখল ও দূষণমুক্তকরণের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে

পানি সম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ঢাকার চারপাশের চারটি নদী দখল ও দূষণমুক্তকরণের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। নদীগুলো হচ্ছে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা। তিনি বলেন, এবার আমরা বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় প্রাথমিকভাবে তুরাগ নদীকে দখল এবং দূষণমুক্তকরণের কাজটা শুরু করে দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব এবং এ লক্ষ্যে কর্ম পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

উপদেষ্টা আজ ঢাকায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয় নদী দিবস ২০২৫ উপলক্ষ্যে নদীকেন্দ্রিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা নোঙ্গর ট্রাস্টের আয়োজনে ‘জীবন নদী’ সপ্তাহব্যাপী চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর ওপর এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, নদীর মধ্যে থাকা অবৈধ দখল উচ্ছেদ, ড্রেজিং করার পাশাপাশি নদীর সীমানা চিহ্নিত ও দূষণমুক্ত করতে হবে এবং সেখানে শিল্প মালিকদের সাথে কথা বলে তাদের কর্মকাণ্ড যেন নিয়ন্ত্রণ করা যায়, ঠিকমতো মনিটর করা যায় সেজন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, বাংলাদেশটা আসলে বাঁচবেই না যদি নদীগুলো আমরা না বাঁচাই। তিনি বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই অল্প সময়ের মধ্যে ঢাকা শহরের ১৯টা খাল দখল ও দূষণমুক্তকরণের লক্ষ্যে কর্ম পরিকল্পনার মাধ্যমে স্বল্প ব্যয়ে ড্রেজিং করানোর কাজটা শুরু করেছিলাম। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ওয়ারপো, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, স্থানীয় সরকার বিভাগ মিলে একটা কর্মপরিকল্পনা করে কাজগুলো শুরু করে দিয়েছি। ঢাকা শহরে যেন জলাবদ্ধতা এবার কম হয়, কোনো কোনো জায়গায় যেন নাই হয় আমরা তার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

উপদেষ্টা বলেন, আমরা ইতোমধ্যে প্রত্যেক জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে রেকর্ড অনুযায়ী নদীর তালিকা নিয়েছি এবং সেটি প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া ৬৪ জেলা হতে ৬৪টি নদী দখল ও দূষণমুক্তকরণের তালিকা করা হয়েছে। কিন্তু তার মধ্য থেকে আমরা ১১টি নদী আলাদা করে নিয়েছি যেগুলোর আমরা বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ শুরু করে দেয়ার চেষ্টা করব।

পরে উপদেষ্টা জাতীয় নদী দিবস ২০২৫ উপলক্ষ্যে ‘জীবন নদী’ শীর্ষক সপ্তাহব্যাপী চিত্রকর্মের প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন এবং চিত্রকর্ম পরিদর্শন করেন। এ ধরনের প্রদর্শনীর মাধ্যমে মানুষকে আরো বেশি নদীকেন্দ্রিক, আরো বেশি পরিবেশকেন্দ্রিক করা যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এছাড়া তিনি জাতীয় নদী দিবস উপলক্ষ্যে নদী কর্মীদের অংশগ্রহণে জাতীয় চিত্রশালা প্রাঙ্গণে এক সাইকেল র‍্যালির উদ্বোধন করেন। 

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নোঙ্গর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সুমন শামস, পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা (ওয়ারপো)-এর মহাপরিচালক মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান পিএইচডি, হাওর অঞ্চলবাসী সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক জাকিয়া শিশির, সাকুরা স্টিল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইব্রাহিম আহমেদ রিপন প্রমুখ।