হরমুজ প্রণালী বন্ধে ক্ষতির দায় ইরানের—আরব রাষ্ট্রগুলোর জবাবদিহিতার দাবি
ডেক্স নিউজ:
আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ফলে সৃষ্ট ক্ষতির জন্য ইরান-কে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে বলে জানিয়েছে আরব রাষ্ট্রগুলো। এই পদক্ষেপে আরব উপসাগরে সামুদ্রিক চলাচল ব্যাহত হয়েছে, জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে এবং খাদ্য, ওষুধ সরবরাহসহ বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল লতিফ আল জায়ানি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড হাজার হাজার নাবিকের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে এবং বিশ্বব্যাপী মানবিক সংকটকে আরও তীব্র করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, এটি আন্তর্জাতিক আইন এবং সমুদ্র আইন সংক্রান্ত জাতিসংঘ কনভেনশন-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
গতকাল আরব লীগ-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বিশেষ বৈঠকে সভাপতিত্বকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন। বৈঠকে আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মহাসচিব আহমেদ আবুল ঘেইত উপস্থিত ছিলেন।
*ড. আল জায়ানি দাবি করেন, গত ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে ইরান হাজার হাজার ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল স্বল্প সময়ে সর্বোচ্চ ধ্বংসযজ্ঞ ঘটানো। এসব হামলাকে তিনি আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের নীতিমালার প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২০২৬ সালের প্রস্তাবনা ২৮১৭, মানবাধিকার পরিষদের প্রস্তাব এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার আহ্বান সত্ত্বেও ইরান তার হামলা বন্ধ করেনি। ফলে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অবস্থান গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ওমান, কাতার, কুয়েত, জর্ডান ও ইরাকের ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এসব দেশের সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এসব হামলার জন্য ইরান সম্পূর্ণ দায়ী এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাধা সৃষ্টি আন্তর্জাতিকভাবে অন্যায় কাজ বলে উল্লেখ করা হয়।
ড. আল জায়ানি জাতিসংঘ সনদের ৫১ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো নথিভুক্ত করে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে উপস্থাপনের আহ্বান জানান।
আরব লীগ সদস্য রাষ্ট্রগুলো আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মে সমন্বিত কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে ইরানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা যায়।