বসতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার একদিন পরই পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি গ্রামে উচ্ছেদের নির্দেশ

 প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৫ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

বসতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার একদিন পরই পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি গ্রামে উচ্ছেদের নির্দেশ

ডেক্স নিউজ: 

পশ্চিম তীর, ২১ এপ্রিল: অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি ফিলিস্তিনি গ্রামে ১৫টি দোকান ভেঙে ফেলার নির্দেশ জারি করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আল-ফানদাকুমিয়া গ্রামে জারি করা এই আদেশে দোকান মালিকদের এক মাসের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এই পদক্ষেপের একদিন আগেই পার্শ্ববর্তী সা-নুর এলাকায় একটি বসতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা উপলক্ষে অনুষ্ঠান করেন ইসরায়েলের শীর্ষ পর্যায়ের মন্ত্রীরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ, অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার।

সা-নুর বসতিটি ২০০৫ সালের গাজা বিচ্ছিন্নকরণ পরিকল্পনা–এর অধীনে খালি করা ১৯টি বসতির একটি ছিল। ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজা থেকেও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে পুনরায় এসব বসতি সক্রিয় করার উদ্যোগ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় গ্রাম পরিষদের প্রধান রেফাত কারুরিয়া বলেন, “দোকান মালিকদের এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এলাকার বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সা-নুরে বসতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার ফলে আশপাশের ফিলিস্তিনিদের জমিতে প্রবেশাধিকারও সীমিত হয়ে পড়তে পারে।

ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীর–কে তাদের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। তবে চলমান বসতি সম্প্রসারণ ওই অঞ্চলকে ক্রমেই খণ্ডিত করে তুলছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অধিকাংশ দেশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় অবৈধ বলে মনে করে। তবে ইসরায়েল এই অবস্থান অস্বীকার করে আসছে।

মানবাধিকার সংস্থা পিস নাউ জানিয়েছে, বর্তমান সরকারের সময়ে নতুন বসতির অনুমোদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অন্যদিকে জাতিসংঘ–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে বসতি স্থাপনকারীদের শতাধিক সহিংস ঘটনার ফলে বহু ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

এছাড়া হিউম্যান রাইটস ওয়াচ পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও উচ্ছেদকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, বসতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও উচ্ছেদ আদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement