রসুন

 প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন   |   কৃষি

রসুন

রসুন একটি বহুবর্ষজীবী ফসল। মধ্য এশিয়া ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলই রসুনের আদি নিবাস। রসুন (Allium Sativum) Alliacee পরিবার ভুক্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কন্দ জাতীয় মসলা ফসল। এটি রান্নার স্বাদ, গন্ধ ও রুচি বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। রসুন ব্যবহারে অজীর্ণ, পেটফাঁপা, ডিপথেরিয়া, বাতরোগ ও যেকোনো রকম চর্মরোগ সারে। এছাড়া রসুন থেকে তৈরি ঔষধ নানা রোগ যেমন- ফুসফুসের রোগ, আন্ত্রিকরোগ, হুপিংকাশি, বাতরোগ, কানব্যথা প্রভৃতিতে ব্যবহৃত হয়। পুষ্টিমানে রসুনে শতকরা ৬২.০ ভাগ পানি, ২৯.৮ ভাগ কার্বহাইড্রেট, ৬.৩ ভাগ প্রোটিন, ০.১ ভাগ তেল, ১.০ ভাগ খনিজ পদার্থ, ০.৪ ভাগ আঁশ এবং ভিটামিন সি আছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৭১.৪৪ হাজার হেক্টর জমিতে রসুন আবাদ করা হয় এবং মোট উৎপাদন প্রায় ৪.৬২ লক্ষ মেট্রিক টন (বিবিএস, ২০১৭)। জাতীয় গড় ফলন ৬.৪৭ টন/হেক্টর। চাহিদার তুলনায় ফলন অনেক কম। নিম্ন ফলনের মূল কারণ উচ্চফলনশীল জাতের অপ্রতুলতা। রসুনের জাত উদ্ভাবনের উদ্দেশ্যে মসলা গবেষণার বিজ্ঞানীগণ বিগত কয়েক বৎসর থেকে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেন।

রসুনের জাত

বারি রসুন-১

বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রসুনের উচ্চ ফলনশীল জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। ২০০৪ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক বারি রসুন-১ নামে জাতটি অনুমোদিত হয়। এ জাতের গাছের উচ্চতা ৬০-৬২ সেমি। প্রতি গাছে পাতার সংখ্যা ৭-৮টি, প্রতি কন্দে কোয়ার সংখ্যা ২০-২২টি, কোয়ার দৈর্ঘ্য ২-২.৫ সেমি, কোয়ার ব্যাস ১-১.৫ সেমি, কন্দের ওজন প্রায় ১৯-২০ গ্রাম। কোয়া লাগানো থেকে ফসল উত্তোলন পর্যন্ত প্রায় ১৪০-১৫০ দিন সময় লাগে। জাতটির ভাইরাস ও অন্যান্য রোগ প্রতিরোধী এবং সংরক্ষণ ক্ষমতা ভালো। গড় ফলন ৬-৭ টন/হেক্টর।

বারি রসুন-২

রসুনের এ জাতটি বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভাবন করা হয়। গাছের উচ্চতা ৫৬-৫৮ সেমি। প্রতি গাছের পাতার সংখ্যা ৯-১০টি, প্রতি কন্দে কোয়ার দৈর্ঘ্য ২.৫-৩ সেমি, কন্দের ওজন ২২-২৩ গ্রাম। জাতটি ভাইরাস ও অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সংরক্ষণ গুণ ভাল। রোপণের সময় আশ্বিনের শেষ সপ্তাহ থেকে কার্তিকের শেষ। বীজের হার হেক্টরপ্রতি ৩০০-৪০০ কেজি (কোয়া)। ০.৭৫-১.০০ গ্রাম রসুনের কোয়া বীজ হিসেবে ব্যবহার করলে ফলন বেশি পাওয়া যায়। জীবনকাল ১২০-১৪০ দিন। তবে আবহাওয়াভেদে কোনো কোনো সময় কম বেশি হতে পারে। ফলন হেক্টরপ্রতি ৮-৯ টন। জাতটি বাংলাদেশের সব এলাকায় চাষ করা যায়।

বারি রসুন-৩

২০১৬ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক বারি রসুন-৩ নামে জাতটি অনুমোদিত হয়। বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। গাছের উচ্চতা ৭১-৭২.৩৯ সেমি.। গাছের পাতার রঙ গাঢ় সবুজ। গাছ মাঝারি ধরনের, প্রতি গাছে পাতার সংখ্যা ১০-১০.৭টি। এটি শীতকালীন জাত। এ জাতের জীবনকাল ১৩৫-১৪০ দিন। প্রতি বাল্বের কোয়ার সংখ্যা ২৩-২৪.৪৫টি, কোয়ার গড় দৈর্ঘ্য ২-২.৫২ সেমি., বাল্বের গড় ওজন ১১-১২.৪৩ গ্রাম ও বাল্বের গড় দৈর্ঘ্য ৩-৩.৩৯ সেমি.। জাতটি ভাইরাস রোগ আক্রমণ সহনশীল এবং পোকামাকড় এর আক্রমণ কম হয়। তবে মাঝে মাঝে পার্পল ব্লচ ও পাতা ঝলসানো রোগ দেখা দিতে পারে। জাতটির হেক্টরপ্রতি ফলন ১০.৫-১১.৩১ টন।

 বারি রসুন-৪

২০১৬ সালে জাতীয় বীজ কর্তৃক বারি রসুন-৪ নামে জাতটি অনুমোদিত হয়। গাছের উচ্চতা ৬৭-৬৮.৩৯ সেমি.। গাছের পাতার রং সবুজ। গাছ মাঝারি ধরনের, প্রতি গাছে পাতার সংখ্যা ৭-৮.৬৩টি। এটি শীতকালীন জাত। এ জাতের জীবনকাল ১৩০-১৪০ দিন। প্রতি বাল্বে কোয়ার সংখ্যা ১৭-১৮.৬৬টি, কোয়ার গড় দৈর্ঘ্য ২-২.২০ সেমি., বাল্বের গড় ওজন ১০-১০.৬২ গ্রাম ও গড় বাল্বের দৈর্ঘ্য ২-২.৯৭ সেমি.। জাতটি ভাইরাস রোগ আক্রমণ সহনশীল এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়। তবে কখনও কখনও পার্পল ব্লচ ও পাতা ঝলসানো রোগ দেখা দিতে পারে। জাতটির হেক্টরপ্রতি ফলন ৮.০-৮.৭৮ টন।

বিনা রসুন-১

গাছের গড় উচ্চতা ৭৫-৮০ সেমি.। প্রতিটি বাল্বের গড় ওজন ২৬.২৫ গ্রাম। প্রতিটি গাছে পাতার সংখ্যা ১১-১৪টি। প্রতিটি বাল্বে কোয়ার সংখ্যা ২৪-৩০টি। রোগ ও পোকার আক্রমণ খুব কম। জীবনকাল ১৩৫-১৪০ দিন। উচ্চফলনশীল ও ভালো সংরক্ষণ গুণাগুণ সম্পন্ন। হেক্টর প্রতি ফলন ১৩-১৫ টন।

বাউ রসুন-১

রসুনের এই জাতটি ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কিছু রোগ প্রতিরোধী। এছাড়াও এটি উচ্চফলনশীল এবং সংরক্ষণ গুণসম্পন্ন।

বাউ রসুন-২

এটি উচ্চফলনশীল ও ভাইরাস রোগ প্রতিরোধী জাত। রসুনের এ জাতের সংরক্ষণ গুণ অনেক ভালো এবং পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হয়ে থাকে। একর প্রতি ফলন ৫০০০-৬০০০ কেজি হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ হতে বাউ রসুন-১ ও বাউ রসুন-২ নামের রসুনের জাত দুইটি উদ্ভাবিত হয়েছে।

ইটালি (দেশি জাত)

রসুনের এই জাতের গাছগুলো শক্ত, চওড়া, পাতাগুলো উপরের দিকে থাকে এবং ফলন বেশি হয়।

আউশী (দেশি জাত)

রসুনের এই জাতের পাতা অপেক্ষাকৃত ছোট ও চিকন। এর কন্দ আকারে ছোট এবং ঢলে পড়ে। এই জাতের ফলন কম হয়ে থাকে। এছাড়াও আকারে ছোট হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা ও মূল্য কম পাওয়া যায়। এছাড়াও দেশি জাতের মধ্যে আমনী জাতের রসুনও রয়েছে।

উৎপাদন প্রযুক্তি

রোপণের সময়

মধ্য অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত রসুনের কোয়া রোপণের উপযুক্ত সময়।

 বীজ হার ও দূরত্ব

হেক্টর প্রতি ৩০০-৪০০ কেজি কোয়া (১ গ্রাম/কোয়া ওজন দরকার) বা রসুন লাগে। রসুনের কোয়ার আকার বড় হলে ফলনও বেশি হয়। রসুনের কোয়াগলো হাতের দুই আঙ্গুল দিয়ে ধরে সারি থেকে সারির দূরত্ব ১৫ ‍সেমি. রেখে প্রতি সারিতে ১০ সেমি. দূরে দূরে ৩-৪ সেমি. মাটির গভীরে লাগাতে হবে।

 

রসুনের সার প্রয়োগ

রসুনের জমিতে হেক্টর/বিঘা প্রতি সারের পরিমাণ নিম্নে উল্লেখ করা হলো-

সারের নাম

সারের পরিমাণ (হেক্টর প্রতি)

সারের পরিমাণ (বিঘা প্রতি)

গোবর

৮  টন

১ টন

ইউরিয়া

২০০ কেজি

২৫-২৬ কেজি

টিএসপি

১২৫ কেজি

১৫-১৬ কেজি

এমওপি

১০০ কেজি

১৩-১৪ কেজি

জিপসাম

১০০ কেজি

১৩-১৪ কেজি

জিংক সালফেট

২০ কেজি

২-৩ কেজি

বোরাক্স (বোরিক এসিড)

১০ কেজি

১-১.৫ কেজি

 

সারের মাত্রা মাটির উর্বরতা বা প্রকৃতি ভেদে কম বেশি হতে পারে। এক কিস্তি ইউরিয়া এবং অন্যান্য সারের সবটুকু জমি তৈরির শেষ চাষের সময় ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। অবশিষ্ট ইউরিয়া সার দুই কিস্তিতে চারা গজানোর যথাক্রমে ২৫ ও ৫০ দিন পর উপরি প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়াও ছাই প্রয়োগ করা যাবে। কেননা ছাই দিলে মাটি আলগা থাকে এবং ফলন বেশি হয়।

রসুন চাষে আন্তঃপরিচর্যা

রসুনের চারা বৃদ্ধি পর্যায়ে জমিতে আগাছা থাকলে জমি আগাছামুক্ত করতে হবে। রসুন লাগানোর ১৫ দিন পর আগাছা বেশি হলে অর্থাৎ আগাছাগুলো নাড়ার উপর দিয়ে উঠা শুরু করলে রনস্টার ১ মিলি/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। কন্দ গঠনের পূর্ব পর্যন্ত ২-৩ বার জমিতে নিড়ানি দিতে হবে। জমিতে ৪-৫ সেমি. পুরু করে কচুরিপানা বা ধানের খড় দ্বারা মালচ প্রয়োগ করলে রসুনের ফলন ভালো হয়। এক্ষেত্রে বেশি সেচের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু মালচ ছাড়া করলে জমির প্রকারভেদে ১০-১৫ দিন পর সেচ প্রয়োগ করতে হবে।

অন্যান্য পরিচর্যা

রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থপানা

রোগ বালাইয়ের মধ্যে ব্লাইট, সফট রট, ড্যাম্পিং অফ, ডাউনি মিলডিউ এবং পাতা ঝলসানো রোগ হয়।

 রসুনের গোড়া পচা রোগ 

এটি (Selerotium rolfsii) ছত্রাকজনিত রোগ।

লক্ষণ

এ রোগের আক্রমণে কন্দের গোড়ায় ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং পরে পচে যায়।

সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা

আক্রান্ত চারা সংগ্রহ করে নষ্ট করতে হবে।

আক্রান্ত জমিতে প্রতি বছর রসুন বা পেঁয়াজ চাষ না করা।

কোয়া বা রসুন বীজ শোধন করে বপন করতে হবে।

প্রতি লিটার পানিতে ৪ গ্রাম কুপ্রাভিট বা ১% বর্দ্দোমিক্সচার বা ২ গ্রাম অটোস্টিন মিশিয়ে চারার গোড়ায় স্প্রে করা।

ডাউনি মিলডিউ রোগ

লক্ষণ

বয়স্ক পাতায় এ রোগ প্রথম দেখা যায়। আক্রান্ত পাতায় গায়ে সাদা বা হলদে থেকে বাদামি রঙের তালির মত দাগ দেখা যায়। ছত্রাকের বাদামি-পার্পল আবরন পাতার কিনারায় দেখা যায় ।

ব্যবস্থাপনা

আক্রান্ত গাছের অংশ সংগ্রহ করে নষ্ট করতে হবে।

আগাম বীজ বপন করতে হবে।

সুষম সার ব্যবহার করতে হবে।

 বিকল্প পোষক যেমন: আগাছা পরিস্কার রাখা।

 ইপ্রোডিয়ন বা মেনকোজেব+মেটালোক্সিল জাতীয় ছত্রাকনাশক যেমন: রোভরাল বা রিডোমিল ঘোল্ড ২ গ্রাম/প্রতি লিটার পানি মিশিয়ে স্প্রে করা ।

পার্পল ব্লচ রোগ

এটি একটি ছত্রাকজনিত রোগ। এ রোগের আক্রমণে পাতায় ও বীজকাণ্ডে পানি ভেজা তামাটে, বাদামি বা হালকা বেগুনি রঙের দাগ দেখা যায়। আক্রান্ত পাতা উপর থেকে মরে আসে। এক সময় পাতা/গাছ ভেঙে যায়।

ব্যবস্থাপনা

আক্রান্ত গাছের অংশ সংগ্রহ করে নষ্ট করতে হবে।

আগাম বীজ বপন করতে হবে।

সুষম সার ব্যবহার করতে হবে।

কার্বেন্ডাজিম জাতীয় ছত্রাকনাশক (যেমন-  এইমকোজিম ২০ গ্রাম) অথবা মেনকোজেব+ মেটালোক্সিল জাতীয় ছত্রাকনাশক (রিডোমিল গোল্ড ২০গ্রাম ) ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রতি ৫ শতকে  ১২-১৫ দিন পরপর ২-৩ বার ভালভাবে স্প্রে করতে হবে। ঔষধ স্প্রে করায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থপাপনা

রসুন সাধারণত থ্রিপস/চুঙ্গি পোকা, রেড স্পাইডার ও মাইট দ্বারা আক্রান্ত হয়।

রসুনের থ্রিপস পোকা

 লক্ষণ

পোকা গাছের কচি পাতা ও পুষ্পমঞ্জুরির রস শুষে খেয়ে গাছকে দুর্বল করে ফেলে। এরা কচি বীজও খেয়ে ফেলে। এদের আক্রমণের কারণে পাতায় বাদামি দাগ হয়।

বস্থাপনা

হলুদ রঙের ফাঁদ ব্যবহার করা।

অতি ঘন করে রসুন চাষ করবেন না।

ক্ষেত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন।

তামাকের গুড়া (১০গ্রাম), সাবানের গুড়া (৫গ্রাম) ও নিমের পাতার নির্যাস প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করা ।

এডমেয়ার ২০ এসএল ০.৫ মিলি./লি হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা।

রসুনের এরিওফাইট মাকড়

অতি ক্ষুদ্র মাকড়ের আক্রমণে রসুনের পাতা কুঁকড়িয়ে জড়িয়ে যায় এবং বাদামি রঙ ধারণ করে। রসুনের আকার ছোট হয়ে ও ফলন কম হয়।

দমন ব্যবস্থা

ক্ষেত থেকে মাকড় বা ডিমসহ আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলা/ ডাল কেটে দেয়া অপসারণ করতে হবে।

লক্ষণ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানিতে অনুমোদিত মাকড়নাশক যেমন: সালফেক্স ১.৫ গ্রাম বা সানমাইট ৩ মিলি. বা ওমাইট ২ মিলি. হারে মিশিয়ে স্প্রে করা ।

ফসল সংগ্রহ

রসুন লাগানোর ২ মাস পর থাকে কন্দ গঠন করতে শুরু করে। ৩-৩.৫ মাস পরে কন্দ পুষ্ট হতে আরম্ভ করে। এভাবে ৪-৫ মাস পরে রসুন উত্তোলন করা যাবে। রসুন গাছের পাতার অগ্রভাগ শুকিয়ে হলুদ বা বাদামি রঙ হয়ে গেলে রসুন তোলা যাবে। হাত দিয়ে টেনে গাছসহ রসুন তোলা হয়ে থাকে। এভাবে রসুনের কন্দগুলি ৪-৫ দিন ছায়াতে শুকানোর পর মরা পাতা কেটে সংরক্ষণ করা হয়।

ফলন: রসুনের হেক্টর প্রতি গড় ফলন ৮-১০ টন।

বীজ হিসাবে রসুন সংরক্ষণ পদ্ধতি

রসুন সংগ্রহের পর ৫-৭ দিন ছায়াযুক্ত স্থানে ভালোভাবে শুকাতে হয়। একে রসুনের কিউরিং বলে। পরে পরিমাণ মতো (৪-৫ কেজি) রসুনের শুকনো গাছ দিয়ে বেনি তৈরি করে বাতাস চলাচল করে এমন ঘরে কয়েকটা বাঁশ দিয়ে তার মধ্যে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। এক ঝোপা থেকে অন্য ঝোপা ফাঁকা ফাঁকা করে রাখতে হবে যাতে করে বাতাস চলাচল করতে পারে। এছাড়া রসুন উত্তোলনের পর পাতা ও শিকড় কেটে ব্যাগে, বাঁশের র‌্যাকে,  মাচায় এবং চটের বস্তাতেও রসুন সংরক্ষণ করা যেতে পারে। বীজের জন্য এভাবে সংরক্ষণ করার আগে মোটা, সুস্থ, সবল, জীবাণু ও রোগমুক্ত রসুন বাছাই করা উত্তম।

গুদামজাতকরণ

শুকনো রসুন আলো বাতাস চলাচলযুক্ত ঘরের মাচায় বেনি করে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এতে রসুন ভালো থাকে। এছাড়া হিমাগারে ০-২০ সে. তাপমাত্রায় শতকরা ৬০-৭০% আর্দ্রতায় রসুন ভালভাবে বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায়।

(তথ্যসূত্র্র্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস)

Advertisement
Advertisement
Advertisement