দেশবিরোধী সকল চুক্তি বাতিলসহ ১৬ দফা দাবিতে ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার সমাবেশ
মোঃআশরাফুল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ:
দেশবিরোধী সকল চুক্তি বাতিল ও ভারতসহ সারাবিশ্বে মুসলিম নির্যাতন বন্ধ এবং ইসলাম, ঈমান ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষারসহ মোট ১৬ দফায় দাবিতে সমাবেশ ও র্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার আয়োজনে জেলা শহরের শান্তিমোড়ে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে মিলাদ শরীফ পাঠ শেষে শান্তিমোড় থেকে একটি র্যালী বের হয়। র্যালীটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ বারোঘরিয়ায় গিয়ে শেষ হয়
সমাবেশে বক্তারা বলেন, পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পালন করতে হবে। এ উপলক্ষে সরকারি ছুটি, বিশেষ বাজেট, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মিলাদ মাহফিল এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের দাবি করা হয়। পাশাপাশি মহানবী (সা.) ও তাঁকে অবমাননাকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গৃহীত ও প্রক্রিয়াধীন বিভিন্ন চুক্তি এবং ১৩৩টি অধ্যাদেশ বাতিল করতে হবে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য, সামরিক ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে করা বা প্রক্রিয়াধীন চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবি তুলে ধরা হয়। এছাড়াও মসজিদ উচ্ছেদ বন্ধ এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মসজিদ নির্মাণের করতে হবেে। এমনকি ভারত, ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিদেশি দেশ থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ করে দেশীয় পণ্য ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, সমকামিতা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন এবং বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত এনজিওগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি করা হয়। বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে বন্ধ্যাকরণ ও টিকাদান কর্মসূচির পরিবর্তে কুকুর নিধন করতে হবে। মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়াও দেশের নিজস্ব খনি ও খনিজ সম্পদ কাজে লাগিয়ে আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যবই থেকে ইসলামবিরোধী বিষয় বাদ দেওয়া এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গান, বাদ্যযন্ত্র ও নৃত্যসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বন্ধ ছাড়াও শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানো এবং সেনাবাহিনীকে আধুনিক ও স্বনির্ভর সামরিক শক্তিতে রূপান্তর করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও পর্দানশীন নারীদের ছবি ছাড়াই আঙুলের ছাপের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের ব্যবস্থা নিতে হবে। বক্তারা ঈমান-ইসলাম, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং দেশের শাসকদের সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার জন্য দোয়া করেন।