সংবাদ শিরোনাম

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে রামিসার পরিবারের পাশে রিজভী: ধর্ষক সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস, বড় বোনের পড়াশোনার দায়িত্ব গ্রহণ

 প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে রামিসার পরিবারের পাশে রিজভী: ধর্ষক সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস, বড় বোনের পড়াশোনার দায়িত্ব গ্রহণ

অনলাইন ডেস্ক:

​রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার তীব্র আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে শোকার্ত ও রিক্ত এক পরিবারের আঙিনায় দাঁড়িয়ে এই প্রতিশ্রুতির কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। উৎসবের আনন্দ যখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই পল্লবীর সেই নিভৃত ঘরে নেমে এসেছে এক পাহাড়সম শোকের ছায়া। বৃহস্পতিবার ঈদের দিন সকালেই রামিসার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাতে সেখানে ছুটে যান তিনি।

​সাক্ষাৎকালে রামিসার বাবা যখন অবুঝ সন্তান হারানোর বেদনায় কান্নায় ভেঙে পড়েন, তখন সেখানে এক অত্যন্ত আবেগঘন এবং হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বুকফাটা আর্তনাদের মাঝে উপস্থিত কেউই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। শোকাচ্ছন্ন সেই বাবার কাঁধে হাত রেখে অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, তিনি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই পরিবারের খোঁজ নিতে এসেছেন। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত ধর্ষক সোহেল রানার যেন দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ আইনগত শাস্তি নিশ্চিত হয়, সে বিষয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন এবং রাষ্ট্র সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। কেবল বিচারের আশ্বাসই নয়, এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে পরিবারটিকে সামলে নিতে রামিসার বড় বোন রাইসার সম্পূর্ণ পড়াশোনার দায়িত্বও সরকারের পক্ষ থেকে গ্রহণ করার ঘোষণা দেন তিনি। সেই সঙ্গে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে যোগ করেন যে, আজ থেকে সমাজের প্রতিটি বিবেকবান মানুষ রাইসার আত্মীয় হিসেবে তার এবং তার পরিবারের পাশে ছায়ার মতো থাকবে।

​উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির অবুঝ শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিকভাবে ধর্ষণের পর অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় ও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুরো পল্লবীসহ রাজধানী জুড়ে তীব্র ক্ষোভ, নিদারুণ শোক এবং অপরাধীর ফাঁসির দাবিতে ব্যাপক গণ-অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। ঈদের দিনেও সেই শোকের আঁচ কমেনি, বরং স্বজন হারানোর বেদনা আরও দ্বিগুণ হয়ে উঠেছে। রামিসার পরিবারের এই কঠিন মুহূর্তে সান্ত্বনা দিতে এবং সংহতি প্রকাশ করতে রিজভীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, সদস্য মাহবুবুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ড. ইকবালুর রহমান রোকনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ একযোগে এই পৈশাচিক সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।