ঐক্য, সাম্য ও ত্যাগের মহিমায় নতুন বাংলাদেশ গড়ার ডাক রাষ্ট্রপতির
নিজস্ব প্রতিবেদক :
পবিত্র ঈদুল আজহার ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশের সব স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। উৎসবের এই পুণ্যলগ্নে তিনি সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করে সাম্য ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ জোর দেন। বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গভবন থেকে প্রচারিত এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান এই উদাত্ত আহ্বান জানান।
ভিডিও বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ঈদুল আজহা কেবল একটি উৎসব নয়, এটি মানুষের মনের পশুত্বকে কোরবানি দিয়ে আত্মত্যাগ, সৌহার্দ্য ও সামাজিক সংহতি সুদৃঢ় করার এক চিরন্তন ও সর্বজনীন মাধ্যম। তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, আসুন আমরা বিভেদ নয়—ঐক্য, হিংসা নয়—সহমর্মিতা, স্বার্থপরতা নয়—ন্যায়পরায়ণতা এবং বৈষম্য নয়—সাম্যের মহান আদর্শকে নিজেদের হৃদয়ে ধারণ করি। ঈদের আনন্দকে সর্বজনীন করতে সমাজের সচ্ছল ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়ে তিনি দরিদ্র, অভাবগ্রস্ত মানুষ এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে এই আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের ন্যায্য হক আদায়ের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে বলেন। একই সঙ্গে উৎসবের আবহে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে কোরবানি পরবর্তী বর্জ্য দ্রুত অপসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে দেশবাসীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান তিনি।
এর আগে, সকালের আলো ফোটার পরপরই রাজধানীজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। সকাল সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান ঈদ জামাতে অংশ নেন। কড়া নিরাপত্তা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এই জামাতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সর্বস্তরের মুসল্লিরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ, দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
মোনাজাতের পর ঈদগাহ ময়দানেই এক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সেখানে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এবং মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মাঠের সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন রাষ্ট্রপ্রধান, যা উৎসবের আনন্দকে আরও দ্বিগুণ করে তোলে।
জাতীয় ঈদগাহের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে ফিরে আসেন। বেলা সাড়ে ১১টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে এক জমকালো ও মর্যাদাপূর্ণ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং তাঁর সহধর্মিণী ড. রেবেকা সুলতানা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এই মিলনমেলায় অংশ নেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক মিশনের প্রধানগণ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানগণ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, পুলিশের আইজিপিসহ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবী সমাজ। বঙ্গভবনের এই অনুষ্ঠানটি যেন রূপ নিয়েছিল দেশের সব মত ও পথের মানুষের এক অনন্য মিলনমেলায়, যেখানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।