তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার সাধারণ মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করবে: স্পিকার
অনলাইন ডেস্ক:
ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের দুঃশাসনের অবসান ঘটে দেশে আজ এক নতুন ভোরের সূচনা হয়েছে। অনেক ত্যাগ ও তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত এই গণতান্ত্রিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনগুলোতে দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার এদেশের সাধারণ মানুষের সার্বিক কল্যাণ ও ভাগ্য পরিবর্তনে পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করবে। পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দঘন মূহূর্তে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এমন দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভোলার লালমোহন ঈদগাহ মাঠে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে আলাপকালে স্পিকার এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিগত দিনগুলোতে দেশের মানুষ এক অবরুদ্ধ ও ভয়ের পরিবেশের মধ্যে দিন কাটিয়েছে। কিন্তু ছাত্র, জনতা এবং রাজনৈতিক কর্মীদের অভূতপূর্ব ত্যাগ ও রাজপথের লড়াইয়ের ফলে সেই ভয়ের সংস্কৃতি আজ চিরতরে দূর হয়েছে। দেশে ফিরে এসেছে মানুষের মৌলিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা। একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকারই কেবল জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম, আর বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যেই অবিচলভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ঈদুল আজহার ত্যাগের মহিমায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার আরও বলেন, এই মহান উৎসব আমাদের আত্মত্যাগের বার্তা দেয়। রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে আমরা যে নতুন স্বাধীনতা পেয়েছি, তাকে টেকসই করতে হলে অর্থনৈতিক মুক্তি অপরিহার্য। বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। খুব শীঘ্রই দেশের মানুষ এই সুশাসনের সুফল ভোগ করতে শুরু করবে।
স্থানীয় রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি নিয়েও এ সময় উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি মুসলিম দেশগুলোর জন্য বেশ সংকটাপন্ন। মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রগুলো প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পরাশক্তির অন্যায় নির্যাতন ও শোষণের শিকার হচ্ছে। মুসলমানদের অগ্রগতি রুখে দিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। এই বৈশ্বিক ষড়যন্ত্র ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সচেতনতা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
ঈদের নামাজ আদায় শেষে স্পিকার তার নিজ নির্বাচনী এলাকার সর্বস্তরের রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। দীর্ঘ বিরতির পর প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে স্থানীয় উৎসুক জনতার মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। এ সময় লালমোহন উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ-সংগঠনের কর্মী সমর্থক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ স্পিকারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। সমবেত সকলের উদ্দেশ্যে স্পিকার বলেন, দল-মত নির্বিশেষে দেশের উন্নয়ন ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, তবেই একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।