শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী: রাজধানীতে ১৬ স্থানে খাবার ও পোশাক বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
মহানগর ডেস্ক:
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানী ঢাকা জুড়ে ব্যাপক মানবিক কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। আগামী ৩০ মে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির যৌথ উদ্যোগে একযোগে মহানগরের ১৬টি পয়েন্টে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাবার ও বস্ত্র বিতরণ করা হবে। বরাবরের মতো এবারও এই বিশাল মানবিক কর্মসূচির নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত বেশ কিছু বছর ধরে দলের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও পটপরিবর্তনের পর এবারের শাহাদাতবার্ষিকী এবং ঈদ-পরবর্তী এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান কর্মসূচির বিস্তারিত নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগরের ১৫টি সংসদীয় আসন এলাকা এবং নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সম্মুখভাগসহ মোট ১৬টি নির্ধারিত স্থানে এই ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হবে। আগামী ৩০ মে বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের টিএন্ডটি স্কুল মাঠ থেকে একযোগে এই কর্মসূচি শুরু হবে। দলের নীতিনির্ধারকদের মতে, উৎসবের আমেজে ঈদ উদযাপনের পর ঢাকার ভাসমান ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের মাঝে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির উদ্যোগেও প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও পৃথকভাবে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে ইতিপূর্বেই দলের ভেতরে জোরদার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১২টা ১০ মিনিট থেকে ১টা পর্যন্ত চলা এই বিশেষ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। সভায় উপস্থিত নেতারা রাজধানীজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রেখে কীভাবে সুশৃঙ্খলভাবে সাধারণ মানুষের হাতে সহায়তা পৌঁছানো যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত রোডম্যাপ প্রণয়ন করেন।
উক্ত সমন্বয় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, নৌ, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনামসহ বিএনপি ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, শুধু মূল দলই নয়, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ প্রতিটি উইংয়ের নেতাকর্মীদের নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবেই মে মাস বাংলাদেশের রাজনীতিতে শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকীর কারণে অত্যন্ত আবেগঘন একটি সময়। দীর্ঘ রাজনৈতিক খরা ও নানা চড়াই-উতরাই পার করে আসা বিএনপির জন্য এই আয়োজন কেবল একটি প্রথাগত স্মরণসভা নয়, বরং জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার একটি বড় মাধ্যম। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় এবং উপস্থিতিতে এই কর্মসূচি সফল করার মাধ্যমে তারা রাজধানীতে দলের সাংগঠনিক শক্তির যেমন মহড়া দিতে পারবেন, তেমনি মানবিকতার বার্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে সক্ষম হবেন। ৩০ মে-র এই কর্মসূচিকে ঘিরে পুরো ঢাকা মহানগরীর দলীয় কার্যালয় ও স্পটগুলোতে এখন সাজসাজ রব এবং চলছে শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত প্রস্তুতি।