সংবাদ শিরোনাম

বিতর্কের ঝড়ে পিছু হটল বাংলাদেশ বেতার, বাতিল হলো কঠোর পোশাকবিধি

 প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ০৪:০২ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

বিতর্কের ঝড়ে পিছু হটল বাংলাদেশ বেতার, বাতিল হলো কঠোর পোশাকবিধি

প্রতিবেদক,ঢাকা: 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা, গণমাধ্যমকর্মীদের ক্ষোভ এবং বিভিন্ন মহলের তীব্র আপত্তির মুখে অবশেষে সংবাদ উপস্থাপকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বিতর্কিত পোশাকসংক্রান্ত নির্দেশনাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ বেতার। গত ২৪ মে (রোববার) প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক এ এস এম জাহীদ স্বাক্ষরিত এক নতুন অফিস আদেশের মাধ্যমে আগের সেই কড়াকড়ি নিয়মটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা একটি বড় বিতর্কের অবসান ঘটল।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল চলতি মাসের শুরুর দিকে। গত ৪ মে বাংলাদেশ বেতারের কেন্দ্রীয় বার্তা সংস্থার পরিচালক (বার্তা) তানিয়া নাজনীন স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। সেখানে ফেসবুক লাইভে প্রচারিত সংবাদ বুলেটিনে অংশ নেওয়া উপস্থাপক-উপস্থাপিকাদের জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও কঠোর পোশাকনীতি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল।

সেই নির্দেশনায় নারী উপস্থাপকদের জন্য শাড়ি অথবা ওড়নাসহ সালোয়ার-কামিজ পরা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি কপালে বড় টিপ না পরা এবং ওড়না একপাশে না ঝুলিয়ে মার্জিতভাবে ব্যবহারের কড়া নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, পুরুষ উপস্থাপকদের জন্য ফুলহাতা শার্টের সঙ্গে টাই পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। বিশেষ দিন বা উৎসবের আয়োজনে পাঞ্জাবি পরার সুযোগ থাকলেও কোনোভাবেই টি-শার্ট বা গেঞ্জি পরে ক্যামেরার সামনে আসা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

অফিস আদেশটি প্রকাশ্যে আসামাত্রই তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে। বিশেষ করে নারী উপস্থাপকদের কপালে টিপ পরা বা ওড়না রাখার ধরন নিয়ে যেভাবে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, তাকে অনেকেই ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ এবং চরম বৈষম্যমূলক ও পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন। আধুনিক সাংবাদিকতার যুগে যখন একজন উপস্থাপকের মেধা, উচ্চারণ, বাচনভঙ্গি এবং পেশাদারিত্বকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তখন রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠানে বাহ্যিক অবয়ব ও পোশাক নিয়ে এমন কড়াকড়িতে খোদ বেতারের ভেতরে-বাইরে তৈরি হয় তীব্র অসন্তোষ।


সমালোচকদের মতে, সংবাদ উপস্থাপনা একটি মননশীল কাজ, যেখানে মূল যোগ্যতা হলো উপস্থাপনা দক্ষতা ও ভাষার শুদ্ধতা। সেখানে পোশাকের পরিমাপ বা টিপের আকার নির্ধারণ করে দেওয়া আধুনিক গণমাধ্যম সংস্কৃতির সঙ্গে একেবারেই বেমানান। বিতর্কের এই আঁচ এসে পড়ে প্রশাসনের ওপরও। তীব্র প্রাতিষ্ঠানিক চাপ ও জনমানসের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয় বাংলাদেশ বেতার কর্তৃপক্ষ। আগের আদেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আবারও তার স্বাভাবিক ও ঐতিহ্যগত ধারায় ফিরে এল, যেখানে পোশাকের চেয়ে সংবাদকর্মীদের পেশাদারিত্বই প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হবে।