বজ্রঝড়-কালবৈশাখীর চোখ রাঙানি: ৪ অঞ্চলে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারী সংকেত, ঢাকাসহ ৬ অঞ্চলে সতর্কতা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গ্রীষ্মের তপ্ত আবহাওয়ার মাঝেই দেশের একটি বড় অংশে ধেয়ে আসছে তীব্র কালবৈশাখী ঝড়। আজ সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যার মধ্যে দেশের ১০টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। আকস্মিক এই বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোতে সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। নদীপথে চলাচলকারী সব ধরনের নৌযানকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের লঞ্চ এবং ট্রলারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন কোনো ধরনের আকস্মিক দুর্ঘটনা না ঘটে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য দেওয়া সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সতর্কবার্তায় জানান, আজ দুপুরের পর থেকেই দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হতে শুরু করেছে। রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। প্রবল বাতাসের তীব্রতা এবং নদীর উত্তাল পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারী সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে নদীর ঘাটগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যাতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো নৌযান মাঝনদীতে রওনা না দেয়।
ঝড়ের এই দাপট কেবল উত্তর বা পশ্চিমাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং তা ছড়িয়ে পড়ছে মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলেও। আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রংপুর, দিনাজপুর, ঢাকা, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়েও পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। অপেক্ষাকৃত কম গতিবেগের এই ঝড় ও বৃষ্টির কারণে এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ১ নম্বর সতর্ক সংকেত এলাকাগুলোতে বড় নৌযান চলাচলে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও আকস্মিক বাতাসের ঝাপটা ও নদীর ঢেউয়ের কথা মাথায় রেখে অত্যন্ত সাবধানে রুট পারাপারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নদীমাতৃক বাংলাদেশে এই সময়ে আকস্মিক কালবৈশাখী ও বজ্রঝড় প্রায়শই বড় ধরনের নৌ-দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে যমুনা, পদ্মা ও মেঘনার অববাহিকায় বাতাসের গতিবেগ অনেক সময় পূর্বাভাসের চেয়েও তীব্র রূপ নেয়। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চৈত্র-বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসের এই সময়ে বায়ুমণ্ডলের নিচতলার বাতাস গরম হয়ে ওপরে উঠে গেলে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঠান্ডা ও ভারী বাতাস ধেয়ে আসে, যা এই ধরনের তীব্র বজ্রঝড়ের সৃষ্টি করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যাত্রী সাধারণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে নৌযান মালিক ও চালকদের আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে তবেই ঘাটের নোঙর ছাড়ার অনুরোধ জানিয়েছে নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সতর্কতা বজায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।