সংবাদ শিরোনাম

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মাঠে বিজিবি: মহাসড়ক ও শপিংমলে ১০ দিনের কড়া নজরদারি

 প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৫:৩৬ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মাঠে বিজিবি: মহাসড়ক ও শপিংমলে ১০ দিনের কড়া নজরদারি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

​পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ করতে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এক নজিরবিহীন প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা লাখো মানুষের ঈদযাত্রা যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি বা নিরাপত্তার সংকটে না পড়ে, সেজন্য এবার মাঠে নামানো হচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ঈদের আগে ও পরে মিলিয়ে মোট ১০ দিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এবং মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবেন বিজিবি সদস্যরা।

​আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। সাধারণত সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত এই বাহিনীর বিশেষ মোতায়েন দেশের মহাসড়ক ও শপিংমলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

​বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যানজট নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। উৎসবের এই সময়ে জনসাধারণের নির্বিঘ্ন কেনাকাটা ও যাতায়াত নিশ্চিতকল্পে রাজধানীর নিউমার্কেট, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সাভারের নবীনগর ও বাইপাইল, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এবং গাজীপুর চৌরাস্তার মতো জনাকীর্ণ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ইতিমধ্যেই বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এসব এলাকায় উৎসবের মৌসুমে প্রতি বছরই ব্যাপক লোকসমাগম ও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা নিয়ন্ত্রণে এবার পুলিশ ও র‍্যাবের পাশাপাশি বিজিবিও সমান্তরালভাবে কাজ করবে।

​সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, এবারের ঈদযাত্রায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মহাসড়কগুলোকে সচল রাখতে এক সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদযাত্রার চেনা ছবি—চরম যানজট, ফিটনেসবিহীন গাড়ির দাপট এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য ঠেকাতে মাঠে থাকবেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটরা। তাদের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) কার্যক্রমকে সরাসরি সহায়তা দেবে বিজিবি। গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজা, মহাসড়ক এবং যানজটপ্রবণ সংযোগস্থলগুলোতে বিজিবি সদস্যদের এই বিশেষ টহল ও উপস্থিতি থাকবে। ঈদের আগের ৭ দিন এবং ঈদের পরের ৩ দিন—অর্থাৎ টানা ১০ দিন তারা এই মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব পালন করবেন।

​বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-টাঙ্গাইল এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের প্রবেশদ্বারগুলোতে প্রতি বছর যে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, তা নিরসনে বিজিবির উপস্থিতি বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সাথে কোরবানির পশুবাহী ট্রাকগুলোর অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা এবং মহাসড়কে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা বিশৃঙ্খলা যেন না ঘটে, সেদিকেও এই বাহিনীর কড়া নজরদারি থাকবে। সাধারণ মানুষের ঈদ আনন্দকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই যৌথ তৎপরতা যাত্রী সাধারণের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।