সংবাদ শিরোনাম

পাঁচ দিনের আগে হাট বসালেই অ্যাকশন: ডিএনসিসি প্রশাসকের কঠোর হুঁশিয়ারি

 প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

পাঁচ দিনের আগে হাট বসালেই অ্যাকশন: ডিএনসিসি প্রশাসকের কঠোর হুঁশিয়ারি

মহানগর ডেস্ক:

​আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে কোরবানির পশুর হাট জমার আগেই কঠোর ও সুনির্দিষ্ট বার্তা দিল ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। নির্ধারিত নিয়মের তোয়াক্কা না করে পশুর হাট বসালে কিংবা সময়ের আগে বেচাকেনা শুরু করলে তা সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে এবার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে নগর প্রশাসন।

​বুধবার (২০ মে) দুপুরে ডিএনসিসির অডিটরিয়ামে কোরবানির হাট ব্যবস্থাপনায় ইজারাদারসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই কঠোর নির্দেশনার কথা জানান ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। জাতীয় জীবনের অন্যতম বড় এই উৎসবকে ঘিরে প্রতিবছরই হাটের শৃঙ্খলা রক্ষা, অতিরিক্ত হাসিল আদায় এবং যত্রতত্র হাট বসানো নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়। এবার সেসব সংকট গোড়াতেই উপড়ে ফেলতে চায় উত্তর সিটি কর্পোরেশন।

​এবারের হাট ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে তদারকির ক্ষেত্রে। মাঠ পর্যায়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ করতে প্রশাসন এবার বিশাল প্রস্তুতি নিয়েছে। ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, প্রায় ১০০ জন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। হাটের যেকোনো কোণে কোনো ধরনের আইন লঙ্ঘন, অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে এই ভ্রাম্যমাণ আদালতগুলো সঙ্গে সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনবে। ইজারা দেওয়া নির্ধারিত স্থান ছাড়া রাজধানীর আর কোথাও যেন কোনো ধরনের অবৈধ হাট গড়ে উঠতে না পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবে।

​হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের সবচেয়ে বড় ভোগান্তির জায়গা হলো অতিরিক্ত হাসিল আদায়। অনেক সময় ইজারাদারদের সিন্ডিকেট নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই বিষয়ে ইজারাদারদের সতর্ক করে শফিকুল ইসলাম খান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পশু বিক্রির মোট অর্থ থেকে ইজারাদাররা সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ হাসিল নিতে পারবেন। এর বাইরে বিক্রেতার কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। যদি কোনো ইজারাদারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত হাসিল কাটার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলে, তবে তার ইজারা বাতিলসহ কঠোর আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

​টানা কয়েকদিনের পশুর হাটের কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। বৃষ্টি হলে হাটের কাদা-পানি আর পশুর বর্জ্য মিলে এক নরককুণ্ডের তৈরি হয়। এই জনদুর্ভোগ এড়াতে এবার ইজারাদারদের ওপর কড়া নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। হাট এলাকায় যেন কোনোভাবেই পানি জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিদিনের জমা হওয়া বর্জ্য রাতের মধ্যেই নির্ধারিত স্থানে সরিয়ে ফেলতে হবে, যাতে কোনো ধরনের দুর্গন্ধ বা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি না হয়।

​সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এখন কোরবানির পশুর হাটের চিত্রও বদলেছে। শুধু পরিবারের পুরুষ সদস্যরাই নন, এখন নারী ও ছোট শিশুরাও হাটের আমেজ উপভোগ করতে এবং পছন্দের পশুটি যাচাই করতে হাটে আসেন। বিষয়টি মাথায় রেখে এবার হাটের সার্বিক নিরাপত্তায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে হাটে আসা নারী ও মা-বোনদের সুবিধার্থে এবং তাদের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাটে আধুনিক ও মানসম্মত ‘পিংক টয়লেট’ স্থাপন করার জন্য ইজারাদারদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

​ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কোরবানির পশুর হাটের ইজারাদারদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, উৎসবের আনন্দকে বিষাদে রূপ দিতে দেওয়া হবে না। নিয়মের মধ্যে থেকে ব্যবসা করার পাশাপাশি নাগরিক স্বস্তি নিশ্চিত করাই হবে এবারের হাট ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য।