সংবাদ শিরোনাম

সুন্দরবন সুরক্ষায় সর্বাত্মক জোর, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সবার অংশগ্রহণের আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর

 প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৬:৪২ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

সুন্দরবন সুরক্ষায় সর্বাত্মক জোর, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সবার অংশগ্রহণের আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর

​বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা:

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি ও পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় বর্তমান সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তবে এই বিশাল চ্যালেঞ্জ কেবল সরকারের একার পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি পরিবেশ রক্ষায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষ, উন্নয়ন সহযোগী এবং সকল অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

​বুধবার (২০ মে) সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘কনজারভেশন অ্যান্ড রেস্টোরেশন ইনিশিয়েটিভস ইন দ্য সুন্দরবনস রিজিয়ন’ (সিআরআইএস) প্রকল্পের উচ্চপর্যায়ের সূচনা কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনের অনন্য ইকোসিস্টেম বা প্রাণপ্রকৃতি পুনরুদ্ধার এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

​পরিবেশমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চলমান প্রচেষ্টাগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিত। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাকৃতিক জলাধার পুনরুদ্ধার, খাল খনন, ব্যাপকভিত্তিক বনায়ন ও বৃক্ষরোপণসহ নানা ধরনের টেকসই ও পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি বর্তমানে চলমান রয়েছে। এসব উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ের জীববৈচিত্র্য ও প্রাণপ্রকৃতি রক্ষায় ইতিমধ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। তিনি আরও জানান, সরকার পরিবেশ দূষণ রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সমান্তরালভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

​উক্ত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করেন। প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকার সুন্দরবনকে পুরোপুরি দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অতীতে বনের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তায় কিছু অনিয়ম এবং শিথিলতা থাকলেও, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে সুন্দরবনে দস্যুতা কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান এবং স্থানীয় জনপদের সহযোগিতায় বনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামগ্রিক বন সংরক্ষণ কার্যক্রমকে আগের চেয়ে অনেক বেশি জোরদার ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

​অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি পরিবেশ বিজ্ঞানী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা সুন্দরবনের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের সুদূরপ্রসারী প্রভাব ও এর চারপাশের মানুষের জীবিকার সংকট নিয়ে আলোচনা করেন। সিআরআইএস প্রকল্পের মাধ্যমে সুন্দরবনের সংকটাপন্ন এলাকাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা এবং বননির্ভর জনগোষ্ঠীর বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। পরিশেষে, একটি সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক মহলের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা।