সংবাদ শিরোনাম

ইতিহাসের পাতায় টাইগারদের সোনালী অধ্যায়: পাকিস্তানকে টানা দ্বিতীয় সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশের অনন্য রেকর্ড, প্রধানমন্ত্রী ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অভিনন্দন

 প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৪:২২ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

ইতিহাসের পাতায় টাইগারদের সোনালী অধ্যায়: পাকিস্তানকে টানা দ্বিতীয় সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশের অনন্য রেকর্ড, প্রধানমন্ত্রী ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অভিনন্দন

ডেক্স নিউজ:

​সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে আজ যে ইতিহাস রচিত হলো, তা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টানা দুই টেস্টেই আধিপত্য বিস্তার করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ। এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে টানা দুটি টেস্ট সিরিজে পরাশক্তি পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবালো লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের শেষ দিনে সফরকারীদের ৭৮ রানে হারিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের স্পিন ও পেসের যৌথ আক্রমণের মুখে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। এই ঐতিহাসিক বিজয়ের পর সারা দেশে বইছে আনন্দের জোয়ার, যা ছুঁয়ে গেছে দেশের সর্বোচ্চ মহলকেও। পাকিস্তান বধের এই অবিস্মরণীয় সাফল্যে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

​ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রিকেটারদের এই লড়াকু মনোভাবের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের এমন সাফল্যযাত্রার ধারাবাহিকতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। এই জয় কেবল মাঠের ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট ও অনুপ্রাণিত করবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দলীয় ঐক্য, কঠোর শৃঙ্খলা এবং আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভবিষ্যতে বিশ্বমঞ্চে আরও বড় বড় সাফল্য কুড়িয়ে আনবে এবং দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। জয়ের এই আনন্দঘন মুহূর্তে তিনি দলের সব খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, ক্রিকেট বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান।

​অন্যদিকে, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এক বিশেষ অভিনন্দন বার্তায় এই জয়কে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শক্তিশালী পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭৮ রানের এই দুর্দান্ত জয় আমাদের ক্রিকেট সামর্থ্যের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। পাকিস্তানের মতো ক্রিকেট পরাশক্তির বিপক্ষে টানা চার টেস্ট ম্যাচ জিতে আমাদের বাঘেরা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ক্রিকেটের দীর্ঘতম ও অভিজাত এই সংস্করণেও বাংলাদেশ এখন যেকোনো দলের জন্যই এক সমীহ জাগানিয়া শক্তির নাম। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট দলের বিপক্ষে টানা এতগুলো ম্যাচ জেতার এবং ব্যাক-টু-ব্যাক সিরিজ হোয়াইটওয়াশ করার রেকর্ড এবারই প্রথম, যা পুরো জাতির জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও পরম গৌরবের।

​ঐতিহাসিক এই টেস্ট ম্যাচটির দিকে তাকালে দেখা যায়, শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তা এবং দ্বিতীয় ইনিংসে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত ও আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি পাকিস্তানি ব্যাটাররা। ম্যাচের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা যে স্নায়ুচাপ সামলে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা প্রদর্শনী। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ম্যাচজুড়ে অসাধারণ ও চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সের জন্য মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের পাশাপাশি পর্দার আড়ালের কারিগর তথা কোচিং স্টাফ এবং ক্রিকেট বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। তিনি গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সাফল্যের এই অভূতপূর্ব ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আগামী দিনেও দেশের জন্য আরও বড় বড় গৌরব, সম্মান ও ট্রফি বয়ে আনবে, যা বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের পতাকাকে চিরকাল সমুন্নত রাখবে।