প্রবাসী তুষ্ট হলেই সার্থক বিমানবন্দর, শীঘ্রই খুলছে থার্ড টার্মিনালের দুয়ার: বিমানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক :
দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার অন্যতম কারিগর প্রবাসী শ্রমিক ও যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করাই বিমানবন্দরের প্রধান লক্ষ্য বলে ঘোষণা দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আধুনিক ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি সরকারের এই নীতিগত অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন। রবিবারের এই আয়োজনে মন্ত্রী জানান, কেবল মুখের কথায় নয়, বরং প্রবাসীদের প্রতিটি মুহূর্তকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে প্রযুক্তির ছোঁয়া পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে দেশের প্রবেশদ্বারগুলোতে। ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারাবাহিকতায় স্মার্ট সেবার পরিধি বাড়াতে এই উদ্যোগ একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
এদিন দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনালে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, যাত্রীসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় এবং হাতের মুঠোয় এনে দিতে আজ থেকে শুধু শাহজালাল বিমানবন্দরই নয়, দেশের সবকটি বিমানবন্দর ও প্রধান প্রধান রেল স্টেশনগুলোতেও উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে প্রবাসী যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ যাতায়াতের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বৈশ্বিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব সুবিধা পাবেন। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার যে বদ্ধপরিকর, এই প্রযুক্তিগত সংযোজন তারই বাস্তব প্রমাণ বলে তিনি দাবি করেন।
নতুন সরকারের আড়াই মাসের পথচলাকে অত্যন্ত গতিশীল ও জনকল্যাণমুখী আখ্যা দিয়ে আফরোজা খানম রিতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র আড়াই মাস পার হয়েছে, অথচ এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তি কমাতে দৃশ্যমান সব পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের কল্যাণে যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয় এখন তা বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রী হয়রানি বন্ধ করা এবং সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার যে মিশন সরকার হাতে নিয়েছে, ইন্টারনেট সেবার বিস্তৃতি তারই একটি প্রাথমিক ধাপ মাত্র।
যোগাযোগ ও পর্যটন খাতের এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী শাহজালাল বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল বা তৃতীয় টার্মিনাল চালুর বিষয়েও বড় বার্তা দেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান যে, অচিরেই এই বিশ্বমানের টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু করা হবে, যা দেশের সার্বিক উন্নয়নের এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার বা ‘তালা’ খুলে দেবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করার পেছনে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, দেশী-বিদেশী প্রকৌশলী ও সাধারণ মানুষের যে সহযোগিতা ছিল, তার জন্য তিনি সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সব বাধা পেরিয়ে বাংলাদেশ এখন আকাশপথে এক বৈশ্বিক হাব বা কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন দেখছে এবং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই লক্ষ্য অর্জিত হবে বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।