ছুটির টানে ঘরের খোঁজে: ঈদ যাত্রার শেষ টিকিট পেতে অনলাইনে লাখো মানুষের চোখ
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র কিছুদিন বাকি। কর্মব্যস্ত নগরের কোলাহল ছেড়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার ব্যাকুলতা এখন প্রতিটি সাধারণ মানুষের চোখে-মুখে। ঘরমুখো মানুষের এই উৎসবমুখর যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে শুরু করেছে অগ্রিম টিকিট বিক্রির মহাযজ্ঞ। সেই ধারাবাহিকতায় আজ রোববার ১৭ মে, ঈদ যাত্রার শেষ দিনের অর্থাৎ ২৭ মে’র অগ্রিম টিকিট বিক্রির মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে রেলের বিশেষ এই কার্যক্রম। প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শেষ মুহূর্তের একটি টিকিটের আশায় ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই কম্পিউটার আর স্মার্টফোনের স্ক্রিনে চোখ রেখে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন লাখো টিকিটপ্রত্যাশী।
রেলওয়ের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, যাত্রীদের দুর্ভোগ ও স্টেশনের উপচে পড়া ভিড় এড়াতে এবারও শতভাগ আসনের টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে। আজ সকাল ৮টা বাজতেই রেলের পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট কাটার যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। প্রতি সেকেন্ডে হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে সার্ভারে যুক্ত হওয়ায় টিকিট যেন পলকের মধ্যেই মিলিয়ে যেতে থাকে। পশ্চিমাঞ্চলের টিকিট বিক্রি শেষ হতে না হতেই দুপুরের অপেক্ষা শুরু হয় পূর্বাঞ্চলের জন্য। আজ দুপুর ২টায় ঢাকা থেকে সিলেট, চট্টগ্রামসহ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এর আগে গত ১৩ মে থেকে শুরু হওয়া এই অগ্রিম টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়ায় প্রতিদিন নির্ধারিত তারিখের টিকিট দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিন ১৩ মে বিক্রি হয় ২৩ মে’র টিকিট, এরপর যথাক্রমে ১৪, ১৫ এবং ১৬ মে বিক্রি করা হয়েছে ২৪, ২৫ ও ২৬ মে’র আসনের টিকিট। আজ শেষ দিনে ২৭ মে’র টিকিট বিক্রির মধ্য দিয়ে অগ্রিম টিকিটের এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হচ্ছে। তবে বরাবরের মতোই চাহিদার তুলনায় টিকিটের সংখ্যা সীমিত হওয়ায় অনেকেই টিকিট না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন। বিশেষ করে যারা কর্মস্থল থেকে ছুটি ম্যানেজ করে শেষ দুই দিনে ঢাকা ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের জন্য আজকের দিনটি ছিল একপ্রকার 'ডু অর ডাই' পরীক্ষা।
টিকিট কালোবাজারি রোধ এবং সাধারণ যাত্রীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে এবার রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু কঠোর নিয়ম কার্যকর করেছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের মাধ্যমে একজন যাত্রী ঈদ যাত্রায় সর্বোচ্চ একবার এবং একসঙ্গে সর্বাধিক চারটি টিকিট ক্রয় করতে পারছেন। টিকিট জালিয়াতি ও অপব্যবহার বন্ধে এবার কোনো অবস্থাতেই অগ্রিম টিকিট রিফান্ড বা ফেরত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। তা সত্ত্বেও, টিকিট কাটার সময় সার্ভারে সাময়িক ধীরগতি কিংবা পেমেন্ট গেটওয়ের জটিলতা নিয়ে অনেক যাত্রীকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
রেলওয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদ যাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি বিশেষ ট্রেন বা ‘ঈদ স্পেশাল’ পরিচালনার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে, যাতে শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ কিছুটা হলেও সামাল দেওয়া যায়। এখন টিকিট যুদ্ধের এই রোমাঞ্চ পেরিয়ে মানুষ যেন সুস্থ ও নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে এবং পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ উৎসবে মেতে উঠতে পারে, এটাই সবার একমাত্র প্রত্যাশা।