জয়নুল আবেদীন ফারুক এর উক্তি "স্বর্ণের চেইন পরা সচ্ছল ব্যক্তিরা যেন ফ্যামিলি কার্ড না পায়"
প্রতিনিধি, নোয়াখালী:
সরকারি বা দলের পক্ষ থেকে দেওয়া জনকল্যাণমূলক সহায়তায় যেন কোনোভাবেই প্রকৃত দুস্থদের অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা জয়নুল আবেদীন ফারুক। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সমাজের কোনো সচ্ছল মানুষ, বিশেষ করে যারা গলায় স্বর্ণের চেইন পরে ঘোরেন, তারা যেন কোনোভাবেই ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা না পান। প্রকৃত অভাবী ও দুস্থ মানুষের দোরগোড়ায় সহায়তার সুফল পৌঁছে দিতে দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার বিকেলে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স ভবনে আয়োজিত এক উৎসবমুখর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেনবাগ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলার ৪ নম্বর কাদরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ৩৮৮ জন ভাগ্যবঞ্চিত নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়। কার্ড হাতে পেয়ে উপস্থিত নারীদের চোখে-মুখে এক বুক স্বস্তি ও আনন্দের আভাস দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুধীজন ও উপকারভোগীদের উদ্দেশে জয়নুল আবেদীন ফারুক বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে আড়াই হাজার টাকার আর্থিক মূল্যের চেয়ে বড় বিষয় হলো নেতারা তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ঠিকঠাক বাস্তবায়ন করছেন কি না। রাজনীতির মূল লক্ষ্যই হওয়া উচিত জনগণের বিশ্বাস ও আস্থার মর্যাদা দেওয়া। কার্ড বিতরণে যেন কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ না ঘটে, সেদিকে সবাইকে কড়া নজর রাখতে হবে। সত্যিকারের সুবিধাবঞ্চিত নারীরা যখন এই কার্ডের মাধ্যমে উপকৃত হবেন, তখনই এই উদ্যোগের প্রকৃত সার্থকতা আসবে।
জনকল্যাণমূলক এই কর্মসূচির পাশাপাশি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন জয়নুল আবেদীন ফারুক। বিশেষ করে মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের ক্রমবর্ধমান উপদ্রব রুখতে প্রশাসনের ভূমিকার ওপর জোর দেন তিনি। জেলা পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা সাফ জানিয়ে দেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় হতে পারে না। কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় যেন কোনো অপরাধী পার পেয়ে না যায়, সে ব্যাপারে পুলিশকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও কঠোর হতে হবে। এমনকি যদি খোদ বিএনপির কোনো নেতাকর্মী বা সমর্থকও এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকে, তবে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, সমাজে মাদকের বিস্তার, বিশেষ করে ইয়াবা ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ করা, রাস্তায় নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে উত্ত্যক্তকরণ রোধ করা এবং উঠতি বয়সের কিশোরদের গ্যাং কালচারের তৎপরতা দমন করতে পারলেই একজন পুলিশ সুপারের প্রকৃত পেশাগত সাফল্য প্রমাণিত হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি সাহসিকতার সাথে এই সামাজিক ব্যাধিগুলো নির্মূল করতে পারে, তবে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ তাদের পাশে থাকবে।
সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন টি.এম মোশাররফ হোসেন, জে.এম মিজানুর রহমান, মুহসিয়া তাবাসসুম এবং নূর পেয়ারা বেগমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা প্রত্যেকেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়াকে সাধুবাদ জানান এবং এলাকার সামাজিক নিরাপত্তা ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের সাথে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।