আওয়ামী লীগের নতজানু নীতিতে পানিশূন্য বাংলাদেশ: ফারাক্কা দিবসে মির্জা ফখরুলের হুঁশিয়ারি
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
ইতিহাসের পাতায় ১৬ মে একটি অবিস্মরণীয় নাম, যা মনে করিয়ে দেয় অধিকার আদায়ের এক সাহসি পদযাত্রা। আজ সেই ঐতিহাসিক ‘ফারাক্কা দিবস’। প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে এই দিনে মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে লক্ষ লক্ষ মানুষ গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ভারত অভিমুখে লংমার্চ করেছিলেন। দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমান ও তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে আওয়ামী লীগ সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।
মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে স্মৃতিরোমন্থন করে বলেন, ৪৯ বছর আগে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ভারত যখন ফারাক্কা পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণ করে একতরফা পানি প্রত্যাহার শুরু করে, তখন বাংলাদেশের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ে। সেই কঠিন সময়ে মাওলানা ভাসানীর ডাকে দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, জনগণের সেই আবেগ এবং জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ভারতকে 'পরীক্ষামূলক' ভাবে বাঁধ চালুর অনুমতি দিয়েছিল। মহাসচিবের মতে, সেই কয়েক দিনের অনুমতিই আজ বাংলাদেশের জন্য স্থায়ী মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সংবাদটিকে আরও বিশদ করতে গিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঐতিহাসিক তথ্যের বরাতে বলা যায়, ১৯৭৫ সালের সেই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর থেকেই বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকার জনমতকে তোয়াক্কা না করে যে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছিল, তার খেসারত আজও দেশের কৃষক ও সাধারণ মানুষ দিয়ে যাচ্ছে। গঙ্গার বুক চিরে জেগে ওঠা বালুচর আর শুকিয়ে যাওয়া নদ-নদীগুলো আজ সেই ভুল রাজনীতির জীবন্ত সাক্ষী।
বিএনপি মহাসচিব আরও উল্লেখ করেন যে, ফারাক্কার পর ভারত একে একে ৫৪টি অভিন্ন নদীতে আন্তর্জাতিক কনভেনশনের তোয়াক্কা না করে বাঁধ নির্মাণ করে চলেছে। ফলে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে এবং পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান বাংলাদেশেও সেই একই ধারা অব্যাহত রয়েছে। জনগণের মৌলিক অধিকার কিংবা দেশের সার্বভৌম স্বার্থ রক্ষা করার চেয়ে ক্ষমতার মসনদ রক্ষায় আওয়ামী লীগ বরাবরই জাতীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়েছে।
গল্পের ছলে দেশের বর্তমান দুরবস্থা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, আজকের দিনটি কেবল একটি তারিখ নয়, এটি যেকোনো অধিকার আদায়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার এক নিরন্তর প্রেরণা। ১৯৭৬ সালের ১৬ মে রাজশাহী থেকে শুরু হওয়া সেই অকুতোভয় মিছিলটি বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছিল যে, বাংলাদেশ মাথা নত করতে জানে না। কিন্তু সেই সংগ্রামের ফসলকে নস্যাৎ করার দায়ভার আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।
বিবৃতির শেষে তিনি দেশবাসীকে আহ্বান জানান, ফারাক্কা দিবসের সেই দ্রোহের চেতনাকে ধারণ করে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে। কারণ, সঠিক নেতৃত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতা ছাড়া এই পানিশূন্য মরুপ্রায় বাংলাদেশ থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। মির্জা ফখরুল স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন, ফারাক্কা সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক মুক্তি অধরাই থেকে যাবে।