সংবাদ শিরোনাম

​জানাজার পবিত্রতা বনাম রাজনৈতিক স্লোগান: মীর হেলালের কড়া বার্তা, গ্রেফতার ২৫

 প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৯:৩২ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

​জানাজার পবিত্রতা বনাম রাজনৈতিক স্লোগান: মীর হেলালের কড়া বার্তা, গ্রেফতার ২৫

​নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম | ১৬ মে, ২০২৬

​চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন এক উত্তপ্ত বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে দীর্ঘদিনের প্রবীণ রাজনীতিবিদের বিদায় সংবর্ধনা, অন্যদিকে ধর্মীয় আবহে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া তীব্র প্রতিক্রিয়া। এই ঘটনায় সরাসরি মাঠে নেমেছেন পার্বত্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

​শুক্রবার চট্টগ্রামের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—ধর্মীয় গাম্ভীর্য নষ্ট করে যারা রাজনীতি করতে চায়, তাদের কোনো 'মুরদ' নেই।

​ঘটনার প্রেক্ষাপট: এক বিদায়ের সুর ও অপ্রত্যাশিত শ্লোগান

​ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। চট্টগ্রামের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে। হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে যখন জানাজা শেষ হলো, ঠিক সেই মুহূর্তে একদল লোক আকস্মিকভাবে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।

​ধর্মীয় আচার ও দাফনের প্রস্তুতির মাঝখানে এই রাজনৈতিক স্লোগান উপস্থিত মুসল্লিদের অনেককেই স্তম্ভিত করে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা জন্ম দেয় এক বিশাল বিতর্কের।

​মীর হেলালের আক্রমণাত্মক বক্তব্য

​শুক্রবার বিকেলে পাহাড়তলী ও খুলশীসহ বিভিন্ন থানা বিএনপি আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল এই ঘটনার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন:

​"জানাজার আগে যেমন তাদের ‘জয় বাংলা’ বলার সাহস ছিল না, জানাজার পরও নেই। জানাজা শেষে মানুষ দরুদ পড়ে, কালেমা পড়ে। সেখানে ১০-২০ জন লোক রাজনৈতিক সস্তা জনপ্রিয়তা পেতে স্লোগান দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বই প্রমাণ করেছে।"

​তিনি আরও যোগ করেন, বিএনপি একটি সহনশীল দল হিসেবে রাজনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়। কিন্তু দাফন বা জানাজার মতো স্পর্শকাতর স্থানে যারা এমন আচরণ করে, তারা আসলে রাজনীতির সংস্কৃতিরই অবক্ষয় ঘটাচ্ছে।

​পুলিশের অ্যাকশন: রাতভর অভিযানে ২৫ আটক

​স্লোগান দেওয়ার ঘটনাটি কেবল রাজনৈতিক বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা গড়িয়েছে আইনি পদক্ষেপ পর্যন্ত। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

​চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, ধর্মীয় জমায়েতে উস্কানি ও অস্থিতিশীলতা তৈরির অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের ইতোমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

​রাজপথের ত্যাগী নেতাদের প্রতি আশ্বাস

​প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল তার বক্তব্যে বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করেন। তিনি নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময়ই রাজপথের ত্যাগী নেতাদের পাশে আছেন এবং থাকবেন।" দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে তিনি নেতাকর্মীদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত

​চট্টগ্রামের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মতো একজন ব্যক্তিত্বের জানাজাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই পরিস্থিতি চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। ধর্মীয় পরিবেশ ও রাজনৈতিক স্লোগানের এই সংঘাত আগামী দিনগুলোতে রাজপথের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দেবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

​প্রধান বক্তার মন্তব্য: অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেন, ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানানো যেকোনো রাজনৈতিক কর্মীর প্রাথমিক শিক্ষা হওয়া উচিত। যা গতকাল লঙ্খন করা হয়েছে।