সংবাদ শিরোনাম

ধীরগতিতে আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে: খানাখন্দ আর অব্যবস্থাপনায় ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তির শঙ্কা

 প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

ধীরগতিতে আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে: খানাখন্দ আর অব্যবস্থাপনায় ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তির শঙ্কা

​নিজস্ব প্রতিবেদক | সাভার

​আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন লাখো মানুষ। তবে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ধীরগতি আর বিশৃঙ্খল নির্মাণকাজের কারণে সাভার-আশুলিয়া রুটে এবার ঈদযাত্রা পরিণত হতে পারে এক দুঃস্বপ্নে। নীতিমালা তোয়াক্কা না করে সড়কের ওপর যত্রতত্র ফেলে রাখা নির্মাণসামগ্রী এবং বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়া খানাখন্দে ভরা নিচতলার সড়ক এখন সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

​সাভারের তুরাগ নদ ঘেঁষে ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ধউর মোড় থেকে বাইপাইল পর্যন্ত দীর্ঘ জনপদ এখন কাদা-জল আর যানজটের এক অভয়ারণ্য। সামান্য বৃষ্টিতেই প্রকল্পের ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতায় হাঁটু সমান পানি জমে থাকছে প্রধান সড়কে। এর ওপর বড় বড় গর্ত বা খানাখন্দে চাকা আটকে বিকল হয়ে পড়ছে পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস। একজন ট্রাকচালক আক্ষেপ করে বলেন, "রাস্তা এমনিতেই ভাঙা, তার ওপর বৃষ্টির পানি জমলে বোঝার উপায় থাকে না কোথায় গর্ত আর কোথায় সমান রাস্তা। প্রতিদিন এখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়।"

​প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী নির্মাণসামগ্রী নির্দিষ্ট স্থানে রাখার কথা থাকলেও রড, সিমেন্ট এবং বড় বড় পাইলিং সরঞ্জাম ফেলে রাখা হয়েছে মূল সড়কের একাংশ দখল করে। এতে এমনিতেই সংকুচিত হয়ে পড়া সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচলের জায়গা আরও কমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বজায় থাকলে ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের স্রোত সামলানো কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।

​ঢাকা-বাইপাইল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম স্বীকার করেছেন কাজের ব্যাপ্তি অনুযায়ী ভোগান্তির কথা। তিনি জানান, বিশাল এই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে এবং নির্মাণ ব্যয়ও নতুন করে বৃদ্ধির পথে। তবে কিছুটা আশার বাণী শুনিয়ে তিনি বলেন, আগামী জুলাই নাগাদ বাইপাইল পর্যন্ত অন্তত দুই লেনের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। যদিও সাধারণ যাত্রীদের প্রশ্ন, জুলাই মাসের আগেই তো ঈদুল আযহা চলে আসবে, তখন কী হবে?

​এই বিলম্বের কারণে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন বুয়েটের যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান। তিনি বলেন, "উন্নয়নের যন্ত্রণা মানুষ ভোগ করছে ঠিকই, কিন্তু সেই যন্ত্রণা যখন অব্যবস্থাপনার কারণে বহুগুণ বেড়ে যায়, তখন তা মেনে নেওয়া কঠিন। ড্রেনেজ সিস্টেমের দুর্বলতা এবং সড়কের বেহাল দশা প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখানে অগ্রাধিকার পায়নি।"

​উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে পাস হওয়া এই প্রকল্পের ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি হয় ২০২২ সালে। সেই সময় ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নতুন করে মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবে ব্যয় আরও কয়েকশ কোটি টাকা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী এই নির্মাণযজ্ঞ আর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলের মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হচ্ছে। এবারের ঈদযাত্রা কি শুধু দুর্ভোগেরই নামান্তর হবে, নাকি শেষ মুহূর্তে দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার আসবে—সেই প্রশ্নই এখন সবার মুখে।