ছাত্রদলের আল্টিমেটাম ও তালাবদ্ধ দপ্তরেই বিদায়: রাবিপ্রবির নতুন ভিসি ড. জয়নুল আবেদীন
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙামাটি
পাহাড়ঘেরা রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) প্রশাসনিক অচলাবস্থা ও ছাত্রদলের টানা আন্দোলনের মুখে অবশেষে পতন হলো উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমানের। নিয়োগ জালিয়াতি, স্বজনপ্রীতি ও জুলাই বিপ্লবের চেতনা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের গুরুতর অভিযোগ মাথায় নিয়ে পদ হারালেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে প্রত্যাহারের আদেশ জারি করা হয়। একই আদেশে বিশ্ববিদ্যালয়টির নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৫ মে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দীন অর্নব ও সদস্য সচিব জিসান আহমেদের নেতৃত্বে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করে। ছাত্রদল নেতাদের দাবি ছিল, ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অধ্যাপক আতিয়ার রহমান বিশ্ববিদ্যালয়কে তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আখড়ায় পরিণত করেছিলেন। মেধা ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ তছরুপ এবং জুলাই অভ্যুত্থানের আদর্শের বাইরে গিয়ে গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
আন্দোলনের এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। ওই সময় ছাত্রদল নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, দুর্নীতিবাজ উপাচার্যকে অপসারণ না করা পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার ৯ দিনের মাথায় সরকার এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। এর মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৪৯০ দিনের মাথায় বিদায় নিতে হলো অধ্যাপক আতিয়ারকে।
অধ্যাপক আতিয়ার রহমানের অপসারণের খবর ক্যাম্পাসে পৌঁছালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। ছাত্রদল নেতা নাসির উদ্দীন অর্নব এই সিদ্ধান্তকে 'ছাত্র-জনতার নৈতিক জয়' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, রাবিপ্রবিতে আর কোনো দুর্নীতিবাজ বা স্বৈরাচারের দোসরদের ঠাঁই হবে না। আমরা চাই নতুন উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনবেন এবং সকল অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত করবেন।
নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী আগামী চার বছরের জন্য এই দায়িত্ব পালন করবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনা এবং ঝুলে থাকা একাডেমিক কার্যক্রম গতিশীল করাই হবে তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ। পাহাড়ের এই সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে তিনি সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। চবির রসায়ন বিভাগের এই প্রথিতযশা অধ্যাপকের নিয়োগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।