সংবাদ শিরোনাম

অন্তর্ভুক্তিমূলক আগামীর অঙ্গীকার: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নির্দেশনা

 প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৭:৫৩ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

অন্তর্ভুক্তিমূলক আগামীর অঙ্গীকার: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নির্দেশনা

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় নিয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষায় কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাষ্ট্রের মূলধারার উন্নয়ন থেকে সমাজের কোনো অংশকেই পিছিয়ে রাখা যাবে না। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মর্যাদা ও সক্ষমতাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা এখন সময়ের দাবি।

​প্রধানমন্ত্রী যখন সভায় বক্তব্য রাখছিলেন, তখন তার কণ্ঠে ফুটে ওঠে এক অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের স্বপ্ন। তিনি মনে করিয়ে দেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের জন্য শুধু দয়া বা সহানুভূতি নয়, বরং প্রয়োজন এমন এক বাস্তবভিত্তিক পরিবেশ যেখানে তারা স্বাবলম্বী হয়ে রাষ্ট্রের প্রতিটি কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন।

​অবকাঠামো ও যাতায়াতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ডাক

​সভার আলোচনা কেবল নীতিনির্ধারণী কথায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্টভাবে অবকাঠামো নির্মাণের ত্রুটিগুলো সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ভবন নির্মাণ নীতিমালায় আমূল পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, হাসপাতাল, রেস্টুরেন্ট কিংবা যেকোনো সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় এখন থেকে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ র‍্যাম্প এবং উপযোগী টয়লেট সুবিধা রাখা বাধ্যতামূলক। এমনকি কক্ষের দরজাগুলো এমনভাবে প্রশস্ত করতে হবে যেন কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অন্যের সাহায্য ছাড়াই সেখানে প্রবেশ করতে পারেন।

​যাতায়াত ব্যবস্থার আধুনিকায়নেও প্রধানমন্ত্রীর নজর কেড়েছে নারীদের জন্য প্রস্তাবিত ইলেকট্রিক বাস সার্ভিস। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, এই নতুন বাসগুলোতেও যেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ওঠানামার জন্য প্রয়োজনীয় যান্ত্রিক সুবিধা ও সংরক্ষিত আসন থাকে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে তিনি নির্দেশ দেন গণমাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মেধা ও সাফল্য তুলে ধরতে।

​তদারকি ও নতুন উদ্যোগ: 'শিশু স্বর্গ'

​শিক্ষাক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে পরিচালিত প্রতিবন্ধী স্কুলগুলোর কার্যক্রম নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখার আদেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতার মতো জাতীয় আয়োজনে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের ক্রীড়া নৈপুণ্য বিকাশের পথ প্রশস্ত করার নির্দেশ দেন তিনি।

​সভার অন্যতম বড় চমক ছিল বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য ‘শিশু স্বর্গ’ নামক একটি পাইলট প্রকল্পের ঘোষণা। প্রাথমিকভাবে দেশের ১০টি জেলার ১০টি উপজেলায় এই প্রকল্প চালু হবে, যার মাধ্যমে শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সরাসরি নিশ্চিত করা হবে। এই পদক্ষেপটি দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের প্রতিবন্ধী শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

​আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের তালিকা

​প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থেকে তাদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন,​মীর শাহে আলম, প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।​ডা. এম এ মুহিত, প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।​ইয়াসির খান চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।​ফারজানা শারমিন পুতুল, প্রতিমন্ত্রী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।​জোনায়েদ সাকি, প্রতিমন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।​ববি হাজ্জাজ, প্রতিমন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।​এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।​আবদুস সাত্তার দুলাল, প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতি।

​এছাড়াও বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিববৃন্দ সভায় অংশগ্রহণ করেন।​প্রতিমন্ত্রীগণ তাদের বক্তব্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বর্তমান সমস্যার চিত্র তুলে ধরেন এবং প্রধানমন্ত্রী সেই সমস্যাগুলো সমাধানে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এই সভাটি কেবল একটি প্রশাসনিক বৈঠক ছিল না, বরং এটি ছিল এক মানবিক বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি দৃঢ় শপথ। সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেন উপস্থিত সকলেই।