সংবাদ শিরোনাম

'সীমান্তে রক্ত ঝরিয়ে বন্ধুত্ব হয় না': ভারতকে কড়া বার্তা নাহিদ ইসলামের

 প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

'সীমান্তে রক্ত ঝরিয়ে বন্ধুত্ব হয় না': ভারতকে কড়া বার্তা নাহিদ ইসলামের

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনটি গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এক গুমোট আবেশে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। উপলক্ষ ছিল ‘শাপলা গণহত্যা: বিচারহীনতার এক যুগ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী। ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আয়োজনে এই সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত হয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম প্রতিবেশী দেশ ভারত এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অমীমাংসিত ক্ষতগুলো নিয়ে অত্যন্ত সোজাসাপ্টা ও ঝাঁজালো বক্তব্য রাখেন।

​বক্তব্যের শুরুতেই তিনি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন সীমান্তের অস্থিরতা নিয়ে। নাহিদ ইসলাম বলেন, এক দেশের সীমান্তে অন্য দেশের নাগরিককে হত্যা করে আর কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে কখনো অকৃত্রিম বন্ধুত্ব গড়ে তোলা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এ দেশ কোনো শক্তির করদ রাজ্য হিসেবে টিকে থাকতে জন্ম নেয়নি। তার মতে, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সেখানে অস্ত্রের আস্ফালন বা বিমাতাসুলভ আচরণের কোনো স্থান নেই।

​কথার পিঠে কথা সাজিয়ে তিনি ফিরে যান ২০১৩ সালের সেই কালরাত্রিতে। শাপলা চত্বরের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে তিনি বলেন, সেই দিনের সেই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল। রাজনীতির ময়দানে মতাদর্শিক ভিন্নতা থাকতেই পারে; হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবির সঙ্গে কেউ একমত হতে পারেন আবার কেউ নাও পারেন, কিন্তু দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আসা নিরস্ত্র মানুষের ওপর রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহার করে গণহত্যা চালানো কোনোভাবেই ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। তিনি আফসোস করে বলেন, যদি এক যুগ আগে সেই অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করা যেত, তবে আজকের প্রজন্মকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের নারকীয় রক্তপাত দেখতে হতো না। শাপলা চত্বরের বিচারহীনতাই মূলত পরবর্তী শাসকগোষ্ঠীকে বেপরোয়া করে তুলেছিল।

​তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সেই সংকটময় মুহূর্তে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপিও আলেমদের পাশে দাঁড়িয়ে যথাযথ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগ মাদ্রাসা ছাত্রদের ঢালাওভাবে ‘জঙ্গি’ হিসেবে চিত্রিত করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দাড়ি-টুপিধারী শিক্ষার্থীদের গায়ে ‘শিবির’ তকমা দিয়ে কোণঠাসা করে রেখেছে। তিনি দৃপ্তকণ্ঠ ঘোষণা করেন, বিভাজনের এই সংস্কৃতি আর সহ্য করা হবে না। এ দেশের মুক্তির লড়াইয়ে আলেম-ওলামাদের যে দীর্ঘ ইতিহাস ও ত্যাগ রয়েছে, তা জাতীয় ইতিহাসে যথাযথ মর্যাদায় অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি।

​আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা সবাই এক সুরে একাত্তরের চেতনা ও বর্তমানের আকাঙ্ক্ষাকে এক করে একটি বৈষম্যহীন এবং সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানটি শেষ হয় এক করুণ নীরবতার মধ্য দিয়ে, যেখানে বিগত এক যুগে নিখোঁজ ও শহীদদের স্মরণে উপস্থিত জনতা অশ্রুসিক্ত নয়নে সংহতি প্রকাশ করেন।